


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জন্ম সার্টিফিকেট না থাকলে পাসপোর্ট তৈরি সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই আটকে যায়। তাই আগে যাঁরা জন্ম সার্টিফিকেট তৈরি করে রাখেননি, তাঁরাও এই সার্টিফিকেট তৈরি করে রাখতে চাইছেন। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরিতে এর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তাই সুযোগ বুঝে জাল সার্টিফিকেট তৈরির একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ফিরলেই দেওয়া হচ্ছে নকল এই সার্টিফিকেট।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রটি আধিকারিকদের সিল এবং সই নকল করে সার্টিফিকেট তৈরি করে দিচ্ছে। আসল এবং নকলের ফারাক বোঝা আমজনতার কাছে দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট তৈরি করার ক্ষেত্রেও জন্ম সার্টিফিকেট দেখা হচ্ছে। ভুয়ো নথি দিয়ে কেউ যাতে পাসপোর্ট হাতে নিতে না পারে তারজন্য ডিআইবি বিভাগকেও সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি পাসপোর্টের জন্য নকল জন্ম সার্টিফিকেট ডিআইবিতে বেশ কয়েকজন জমা করেছিল। আউশগ্রাম বর্ধমান এবং নাদনঘাট থানার পুলিস ঘটনা তদন্ত শুরু করে। চার-পাঁচজন প্রতারক গ্রেপ্তারও হয়। কিন্তু, তারপরও চক্রটি হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা এখনও নকল জন্ম সার্টিফিকেট তৈরি করে চলছে বলে অভিযোগ। এক আধিকারিক বলেন, প্রতারকরা সার্টিফিকেট তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু না কিছু ভুল করেই। তদন্তকারীরা তা দেখে সহজেই আসল নকলের ফারাক বুঝে যায়। কিন্তু, প্রতারকরা যাদের এই সার্টিফিকেট তৈরি করে দেয় তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। আসল ভেবেই সার্টিফিকেটের জন্য তারা টাকা দেয়। বিভিন্ন হাসপাতালেও এই দালাল চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। তাদের এজেন্ট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। তারাই গ্রাহক নিয়ে আসে। বিশ্বাস অর্জন করার জন্য গ্রাহকদের কাছে থেকে তারা ভোটার, আধার কার্ডের জেরক্স জমা নেয়। কিছুদিন সময়ও চেয়ে নেয়। আস্থা অর্জন করার পরেই তারা সার্টিফিকেট দেয়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে এই চক্রের নেটওয়ার্ক পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গাতেই ছড়িয়ে রয়েছে। তারা নিজেরাই ভালোমানের কাগজ দিয়ে সার্টিফিকেট ছাপায়। আসল সার্টিফিকেটের মতোই তারা সবকিছু করার চেষ্টা করে। কিন্তু, সবটা পেরে ওঠে না। সেই কারণে তদন্তকারী কোনও আধিকারিক তা হাতে নিলে সহজেই নকল বলে বুঝে যায়।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, যারা নকল সার্টিফিকেট দিয়ে পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদেরও বেশ কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতারক চক্রের কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। জন্ম সার্টিফিকেট কেউ তৈরি করে দিতে পারে না। সেটা আমজনতার বোঝা উচিত। তা না হলে তারা এভাবেই প্রতারিত হতে থাকবে। এখন পাসপোর্ট তৈরির জন্য জমা হওয়া জন্ম সার্টিফিকেট খুঁটিয়ে দেখা হয়। সন্দেহ হলেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।