


নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি: আগামী দিন মোটেই মসৃণ নয় ভারতীয় অর্থনীতির জন্য। অনেক ইতিবাচক দিকের মধ্যেও ঝড়ের পূর্বাভাস মিলল আর্থিক সমীক্ষায়। দেশের কৃষিকাজে জলবায়ু পরিবর্তন ও জল সঙ্কটের করাল গ্রাস থেকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে চলতি অস্থিরতা- এই সমস্ত কিছুই আগামী দিনে অর্থনীতিকে দুর্যোগের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে রিপোর্টে।
রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি মোদি সরকারের সাধারণ বাজেট। তার আগে প্রথা মেনে আজ, বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হল আর্থিক সমীক্ষা র়িপোর্ট। এটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণের প্রস্তুত এই রিপোর্টে দেশের কৃষিক্ষেত্রের সমস্যা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন দেখিয়েছে মোদি সরকার। এই লক্ষ্য পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে কৃষি। সাম্প্রতিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও এই ক্ষেত্র উৎপাদন নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে রিপোর্টে সতর্ক করে দেওয়া করে হয়েছে।
এছাড়াও এবারের আর্থিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে দেশের ডিজিপি বৃদ্ধির গতি কিছুটা নিচের দিকে নামার সম্ভাবনা। তা ঘোরাফেরা করবে ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে। যা চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-২৬) তুলনায় কিছুটা কম। চলতি আর্থিক বছরে ৭.৪ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা। অর্থাৎ, আগামী আর্থিক বছর যে ভারতীয় অর্থনীতি যে দুর্যোগের মধ্যে পড়তে চলেছে, তা এই রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট। সেইসঙ্গে রাজকোষ ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৪.৪ শতাংশ।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, আমেরিকার চাপানো বিপুল শুল্কের বোঝার চাপ সহ্য করে বৃদ্ধির গতি ধরে রেখেছে ভারতীয় অর্থনীতি। বেশ কয়েকটি ভারতীয় পণ্য রপ্তানির উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তের জেরে আর্থিক বৃদ্ধি নিম্নমুখী হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল হয়েছে।