


প্যারিস: ১৩৬ বছর ধরে প্যারিস শহর তথা ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক প্রতীক। প্রেমের প্রতীকও বটে। প্রতি বছর স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শনের সাক্ষী হতে প্যারিসে হাজির হন লক্ষ লক্ষ পর্যটক। আর সেই আইফেল টাওয়ারই নাকি ২০২৬ সালে ভেঙে ফেলা হবে! কারণ, বয়সের ভারে জীর্ণ হয়ে গিয়েছে ফরাসিদের ‘আয়রন লেডি’। গত কয়েকদিন ধরে এই গুজবে উত্তাল ফ্রান্স। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ক্রমশ সেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্য প্রান্তেও। ২ অক্টোবর থেকে আইফেল টাওয়ার পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকায় ভেঙে ফেলার জল্পনা আরও বাড়ে। তবে, শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে আইফেল টাওয়ারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিটি। তারা জানিয়েছে, কর্মীদের ধর্মঘটের জন্যই আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা। অদূর ভবিষ্যতে এই স্থাপত্য ভেঙে ফেলার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছে ওই কমিটি।
সরকারি খরচ কমানো ও ধনীদের উপর আরও বেশি হারে কর বসানোর দাবিতে ২ অক্টোবর রাস্তায় নামেন ফ্রান্সের নাগরিকরা। দু’শো শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটে শামিল হন হাজার হাজার শ্রমিক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পড়ুয়ারা। আর ওই ধর্মঘটের জেরেই আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আইফেল টাওয়ার ভেঙে ফেলার গুজব ছড়াল কেন? ১৮৮৯ সালে এই টাওয়ারের নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু এই স্থাপত্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফ্রান্সেই ক্ষোভ ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল, ২০ বছর পর আইফেল টাওয়ার ভেঙে ফেলা হবে। কিন্তু স্থপতি গুস্তাভ আইফেল সেখানে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নির্ণয়, রেডিও এবং ওয়ারলেস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিভিন্ন যন্ত্র বসান। ফলে ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও আর আইফেল টাওয়ার ভাঙা হয়নি। বরং, তা সারা বিশ্বে ক্রমশ বিখ্যাত হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরেও এই টাওয়ার ভেঙে ফেলা নিয়ে জল্পনা থামেনি। অতীতেও রক্ষণাবেক্ষণ বা ধর্মঘটের জন্য যতবার এটি বন্ধ রাখা হয়েছে, ততবারই ভেঙে ফেলার গুজব মাথাচাড়া দিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।