


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির বারান্দার সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন বৃদ্ধা। তাঁর গলায় শাড়ির ফাঁস। পাশের ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হল গৃহকর্তা তথা বৃদ্ধার স্বামীকে। তাঁর গলায় ওই একই শাড়ির ছেঁড়া অংশের ফাঁস।
সোমবার ভরসন্ধ্যায় হরিদেবপুর থানা এলাকার দাসপাড়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হল বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের নাম বিকাশ দাস (৭২) ও বাসন্তী দাস (৬৩)। জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়রাই ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালাকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা রয়েছে, ‘৬ মাসের বাড়ি ভাড়া বকেয়া। তার জন্য বাড়িওয়ালা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন। তার জেরেই মানসিক চাপে আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ দম্পতি।’ প্রাথমিকভাবে জোড়া দেহ উদ্ধার করে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে দু’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে হরিদেবপুর থানা। এরপর সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পারেন, দু’বছর ধরে দাসপাড়ার ওই বাড়িতে ভাড়ায় থাকছিলেন দম্পতি। বাসন্তীদেবী পেশায় আয়া। অন্যদিকে, জমি-বাড়ি বিক্রির দালাল হিসাবে কাজ করতেন বিকাশবাবু। গত আট মাস ধরে আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন তাঁরা। সংসারে টান পড়েছিল। তার জেরেই বকেয়া পড়ে যায় বাড়ি ভাড়া। অভিযোগ, বাড়ির মালকিন বুলা পাল ভাড়ার টাকার জন্য ওই বৃদ্ধ দম্পতির উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এছাড়াও সুইসাইড নোটে ‘বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্য মৌসুমি মণ্ডল, গোপাল মণ্ডল ও লতিকা মণ্ডলকে আত্মহত্যার জন্য দায়ী’ করেছেন বিকাশবাবু। লালবাজার জানিয়েছে, মৃতের এক আত্মীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু হয়েছে। যদিও রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।