


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুম্বইয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া এক বৃদ্ধের টাকা ঢুকল এন্টালির এক বাসিন্দার অ্যাকাউন্টে। লেনদেনের সূত্র ধরে শনিবার রাতে অভিযুক্ত বান্টি দাসকে এন্টালি থেকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশ। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মুম্বই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের ভাসির এক বাসিন্দা ফোন পান। উলটোদিক থেকে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে পার্সেল এসেছে মুম্বই বিমানবন্দরে। তাতে মাদক রয়েছে। তাঁর আধার কার্ডের নম্বর পাওয়া গিয়েছে ওই পার্সেলে। একইসঙ্গে ওই নথি দিয়ে তোলা হয়েছে একাধিক সিম। তিনি হাওলা লেনদেনে যুক্ত। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে জালিয়াতরা জানায়, এই কারণে তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে ওয়ারেন্টের কপি পাঠিয়েছে তারা। বৃদ্ধ ভয় পেয়ে কী করতে হবে, জানতে চান। তাঁকে বলা হয়, টাকা দিলে সমস্যা মিটে যাবে। তিনি প্রতারকদের কথামতো ১৫ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু তারপরেও টাকা দাবি করায় অভিযোগ করেন ভাসি থানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় চার লক্ষ টাকা ঢুকেছে। যেটি কলকাতার এক ব্যক্তির। এরপরই মুম্বই পুলিশের টিম কলকাতায় এসে অভিযুক্ত বান্টিকে গ্রেপ্তার করে।
তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, অনলাইনের সূত্র ধরে তার সঙ্গে একজনের পরিচয় হয়েছিল। ওই ব্যক্তি বলেছিল, অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে ভালো টাকা কমিশন পাওয়া যাবে। টাকার লোভেই অ্যাকাউন্টের তথ্য তাকে দিয়েছিল সে। তার কাছে জালিয়াতির টাকা আসত। এরপর প্রতারকদের কথামতো সেই টাকা তাদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিত। সাইবার জালিয়াতির টাকা যে তার অ্যাকাউন্টে ঢুকত, তা জানত বান্টি। বিনিময়ে ভালো টাকা কমিশন পেয়েছে সে।