


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, নিকাশির সমস্যা এবং জায়গায় জায়গায় আবর্জনার স্তূপ— একাধিক নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত শিবপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা। নিকাশির বেহাল পরিস্থিতিকে ভোটের ময়দানে ইস্যু করে আক্রমণ শানাচ্ছে বিজেপি। তবে পালটা কৌশলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীকে সামনে রেখে প্রচারে জোর বাড়িয়েছে তৃণমূল। শিবপুরে দলের প্রার্থী ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে মানুষের আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের তরফে।
বছরের পর বছর নর্দমা সাফাই না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। শিবপুর বিধানসভার অন্তর্গত হাওড়া পুরসভার প্রায় ১০টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকাই এই সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে দাশনগরের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ছোটো থেকে বড়ো সব নিকাশি নালাই আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় সেই নোংরা জল বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। নিকাশির পাশেই রয়েছে পানীয় জলের কল। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জল সংগ্রহ করতে হয় বাসিন্দাদের। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণেই বিধায়ক মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্মেছে বাসিন্দাদের। এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই বেহাল নিকাশি ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে বিজেপি। নিকাশি সমস্যায় জর্জরিত এলাকায় গিয়ে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। তৃণমূল বিরোধী ভোট একজোট করার লক্ষ্যে সিপিএম কর্মীদেরও নির্বাচনি লড়াইয়ে আহ্বান জানাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
অন্যদিকে, সমস্যার বাস্তবতা অস্বীকার না করে বরং তা মেনে নিয়েই সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছে তৃণমূল। প্রার্থী ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে বাসিন্দাদের অভিযোগ শুনেছেন এবং নিকাশির সুরাহার জন্য হাওড়া পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘মানুষের ক্ষোভ যুক্তিসংগত। নিকাশি নিয়ে বহু কাজ বাকি, সেই কাজ করতেই দল আমাকে সুযোগ দিয়েছে।’ এদিকে, সাধারণ মানুষের একাংশ স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান বিধায়ককে সেভাবে কাজের সময় পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ জমেছে এলাকায়। তবে সেই ক্ষোভের মাঝেও তৃণমূলের নতুন প্রার্থীর উপর ভরসা রাখছেন অনেকেই। বিশেষ করে তিনি চিকিৎসক হওয়ায়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দার কথায়, ‘আমরা আগের বিধায়ককে চাইনি। তৃণমূলের প্রার্থী আমাদের কথা শুনছেন, সমস্যার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করছেন। আমদের বিশ্বাস, তিনি জিতলে শিবপুরে নিকাশির হাল ফেরাতে উদ্যোগী হবেন।’ ফলে নিকাশি সমস্যাকে ঘিরেই শিবপুরে নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ তীব্র হয়েছে, যেখানে মানুষের ভরসা ও ক্ষোভ— দুই’ই বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।