


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এবার তাঁদের বসতে হবে পরীক্ষায়। এই ভোটকর্মীদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তার উপরেই হবে এই মূল্যায়ন। প্রতি বিধানসভা থেকে সাতজন করে বিএলও-কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্য বিএলওদের ট্রেনিং দেওয়ার সময় কমিশন থেকে পর্যবেক্ষক আসবেন। ঠিক মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। গোটা প্রক্রিয়ার ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ হবে, যা সরাসরি দেখতে পারবে কমিশন। পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করে বিএলওদের ‘গ্রেড’ দেওয়া হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আসবে কমিশন থেকে। অনলাইনেই হবে মূল্যায়ন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ভোটের কাজে যুক্ত এই ভোটকর্মীরা যাতে পুরোপুরি নিখুঁতভাবে কাজ করেন, তা নিশ্চিত করতেই তৎপর হয়েছে কমিশন।
আগামী বছর যেসব রাজ্যে ভোট রয়েছে, সেখানকার বিএলওদের এই পরীক্ষায় বসতে হবে। প্রথম পর্যায়ে এ রাজ্য থেকে বিএলওদের একাংশকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কমিশন। তাঁদেরও এবার মূল্যায়ন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন না, তাঁরা কি ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন? বিষয়টি একনও স্পষ্ট করেনি কমিশন। কিন্তু যেভাবে এই ভোটকর্মীদের সঙ্কট কমবেশি সর্বত্রই রয়েছে, তাতে কাউকে এই কাজ থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, প্রশ্ন রয়েছে। তবে শুধু পরীক্ষা দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয় বিএলওদের। পরীক্ষায় যাঁরা ভালো ‘গ্রেড’ পাবেন, তাঁদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে ‘মাস্টার ট্রেনার’ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে বিধানসভাভিত্তিক বিএলওদের আবার এক দফা প্রশিক্ষণ দেবে কমিশন। যাঁদের ট্রেনিং হয়ে যাবে, তাঁরাই পরবর্তী সময়ে বাকি বিএলওদের কাজ শেখাবেন। গোটা প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।