


অমৃতসর, ২০ সেপ্টম্বর: পাঞ্জাবে পুলিশ আধিকারিক খুনের ঘটনায় তদন্তে বড় সাফল্য। এনাকাউন্টারে মৃত্যু হল ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যতম অভিযুক্ত দীপক সিং নামক এক ব্যক্তির। অমৃতসরের মুলচাক এলাকার বাসিন্দা দীপকের বিরুদ্ধে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর হরজিৎ সিংকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পিছনে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত কোনও সন্ত্রাসবাদী চক্রের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ভগৎওয়ালা শস্য বাজার এলাকায় পেট্রলিং চলাকালীন হামলার মুখে পড়েন এএসআই হরজিৎ সিং। অভিযোগ, দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের পাশাপাশি টাওয়ার ডাম্প এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। শনিবার রাতে একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্দেহজনক একটি স্কুটারকে থামানো হয়। স্কুটারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দীপকও ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, চেকপোস্টে থামার পরিবর্তে দীপক গুলি চালাতে শুরু করেন। পরপর চার রাউন্ড গুলি চালানোর পর পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। সেই গুলিতে আহত হন দীপক। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর এক অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এনকাউন্টারের পর দীপকের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়স্ত্র উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, এএসআই হরজিৎ সিংকে হত্যার সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি সেটিই। ছাড়াও দুটি ম্যাগাজিন, আটটি কার্তুজ এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। হামলার জন্য অভিযুক্তদের আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।