


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ায় নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। জ্বালানির দাম আগেই বেড়েছে। তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে। তবে পেট্রলের সঙ্গে ২০শতাংশ ইথানল মেশানোয় কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে ফুঁসছে আম জনতা। তাঁদের অভিযোগ, পুরনো বাইকগুলির মাইলেজ অনেক কমে গিয়েছে। পেট্রল পাম্পের কর্মীরাও অনেক সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন। ইথানল নিয়ে শুধু পেট্রল পাম্প নয়, জোর চর্চা চলছে গ্যারেজগুলিতেও। মেকানিকদের একাংশের দাবি, বাইকের ইঞ্জিন ও তেলের ট্যাঙ্কিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মেকানিকরা মনে করছেন, বর্ষায় এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে কোনোভাবে জল মিশে গেলে পেট্রল ও ইথানল পৃথক হয়ে যাবে। গাড়ির ট্যাঙ্কে জল তিন ভাবে ঢোকার সম্ভাবনা থাকে। পেট্রল পাম্পে রিজার্ভারে অতি বৃষ্টিতে কোনোভাবে জল ঢুকে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, বাইকের ট্যাঙ্কেও কোনোভাবে জল প্রবেশ করতে পারে। অথবা যে সংস্থা জ্বালানি সরবরাহ করছে সেখানেও কোনোভাবে জল প্রবেশ করলেই সমস্যা বাড়বে।
পেট্রল পাম্পে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, গত ৬ মাস ধরে পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে। তারপর থেকেই বাইকে ও গাড়িতে সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে পুরনো বাইকগুলিতে। বিএস-৬ ক্যাটাগরির বাইরের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু বিএস-৩, বিএস-৪ ক্যাটাগরির বাইকের মাইলেজ যথেষ্ট কমে গিয়েছে, গাড়ির যন্ত্রাংশ খারাপ হচ্ছে। জ্বালানি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় পকেটে টান পড়ছে, যা নিয়ে অনেক সময়েই ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন পাম্পের কর্মীরা।
একই সমস্যায় পড়েছেন গ্যারেজের মিস্ত্রিরাও। বার বার বাইকের সমস্যা হওয়ায় ক্রেতারা মিস্ত্রিকেই দোষারোপ করছেন। পুরনো বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়া ও গাড়ির নানা সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করছে সাধারণ মানুষ। সরকারি কর্মী রবিন পাল, ব্যবসায়ী ধীরেন সিং বলেন, আগাম ঘোষণা ছাড়াই পেট্রলে ২০শতাংশ ইথানল মেশানো হয়েছে। বাড়তি এই আর্থিক বোঝার দায় কে নেবে?
পেট্রল পাম্পের কর্মীরা বলেন, ইথানল নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই বেশি দাম দিয়ে ইথানল বর্জিত পেট্রলের খোঁজ করছেন। দাম বেশি দিয়েও অনেকে তা কিনতে চাইছেন। এছাড়াও পেট্রল পাম্পে সাধারণ পেট্রলের পাশাপাশি ভালো গুণমানের পাওয়ার পেট্রলও পাওয়া যায়, যা লিটারে দশ টাকা বেশি দাম পড়ে। গাড়ির ক্ষতি কম হবে। মাইলেজ বেশি পাওয়া যাবে, এই আশায় অনেকেই সেই ‘পাওয়ার পেট্রল’ কিনছেন। যদিও এখন বেশিরভাগ সময় ‘পাওয়ার পেট্রলে’র পর্যাপ্ত জোগান থাকছে না।
পাম্প মালিক ও কর্মীদের ইথানল মেশানো নিয়ে কোনো মন্তব্য না করতে ফরমান দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও হরমুজ উত্তেজনা নিয়ে অনেকে পাম্প মালিকই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আসানসোলের পেট্রল পাম্প মালিক সুবীর সাহা, রাজু আগরওয়ালরা বলেন, হরমুজ সমস্যা না মেটা পর্যন্ত উদ্বেগ তো রয়েছেই। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া গেলে ফের জ্বালানি দেওয়ার উপর বিধিনিষেধ জারি হতে পারে।