


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটবল বাঙালির আবেগ। আর সেই আবেগের অপর নাম নীল-সাদা জার্সি। আজ, বুধবার রাতে ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা এবং ইংল্যান্ড। এক দলের স্টার প্লেয়ার হ্যারি কেন এবং অন্য প্রান্তে বাঙালির প্রিয় মেসি। কোন দল যাবে ফাইনালে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চায়ের কাপে তুফান উঠে গিয়েছে। তবে মন এবং হৃদয়ের দ্বৈরথে এগিয়ে অবশ্য মেসিরাই। এদিন ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলা। তার আগে এসপ্ল্যানেড চত্বর এবং অনলাইন থেকে নীল-সাদা জার্সি কিনে ফেলেছেন অনেকেই। ইংল্যান্ডের সমর্থক অবশ্য কলকাতাতে হাতে গোনা। খেলা চলাকালীন মুখরোচক খাবার এবং কোল্ড ড্রিংকস কিনে স্টক মজুত করে ফেলেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। খেলার সময় বারবার টিভির পর্দা ছেড়ে তো আর ওঠা যাবে না। অনেক পাড়ায় লেগে গিয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিনও।
কিন্তু ফাইনালে কোন দল যাবে এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারা ইংল্যান্ডও মরিয়া। ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন হ্যারি কেন। ফ্রান্সের কাছে হার মানতে হয়েছিল ইংলিশদের। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে হ্যারি কেন, বেলিংহ্যাম, সাকারা। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই গোল এবং জয়ের নেপথ্যে এদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতেও গোল পেয়েছেন। ৬টি গোল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন খোদ হ্যারি কেন। ফলে ইংল্যান্ডকে দেখে মনে হতেই পারে যে তাঁরা যে কোনও কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্যও প্রস্তুত।
তবে ভুললে চলবে না দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন মেসি। যোগ্যসঙ্গতে আলভারেজ, রোমেরো, মার্টিনেজ, এনজোরা। অনেকেই ইংল্যান্ড জিতবে এমন আনাড়ি তর্ক করলেও ৩৯ বছরের মেসির ফর্ম বারবারই তাঁদের সেই বক্তব্যকে চপেটাঘাত করেছে। গোটা বিশ্বকাপে তার অনবদ্য ফর্ম জাস্ট তাক লাগানোর মতো। রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিরুদ্ধে প্রায় হেরে যাওয়ার ম্যাচে তাঁর গোল অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সঞ্চার ঘটিয়েছিল। বাকিটা ইতিহাস। ৩-২ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জেতে আর্জেন্তিনা। বিশ্বকাপে ৮ গোল দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদারও মেসি। এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোল করেও রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। কাজেই পরিসংখ্যানে কয়েক যোজন এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্তিনা একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই আর্জেন্তিনার কোচ স্কালোনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। তারা দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। লক্ষ্য থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছি। আর সেখানে পৌঁছতে আমরা নিজেদের সবটা উজাড় করে দেব। উল্লেখ্য, আর্জেন্তিনা ফিফা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালে। এর পাশাপাশি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে তারা।