


মুম্বই: জীবন্মৃত অবস্থায় কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সেরে ওঠার কোনো ইঙ্গিতও নেই। অবশেষে আদালতের নির্দেশে ‘সম্মানজনক বিদায়ে’র অনুমতি পেয়েছেন হরিশ রানা। একইভাবে জীবন-মৃত্যুর মাঝে আটকে রয়েছেন মুম্বইয়ের আনন্দ দীক্ষিত। আড়াই বছর ধরে শয্যাশায়ী। বাড়তে বাড়তে ৪ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে চিকিৎসার খরচ। তুমুল অনটনের মধ্যেও হাল ছাড়তে নারাজ আনন্দের পরিবার। একচিলতে ভাড়ার ঘরে নাওয়া-খাওয়া ভুলে তাঁরা অপেক্ষা করছেন, কবে একবার মা-বাবা বলে ডাকবে ছেলে!
শুধু ছেলের স্বাস্থ্যই নয়, দীক্ষিত পরিবারকে লড়াই করতে হচ্ছে আরও বেশ কিছু সমস্যার সঙ্গে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে জমিও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। ব্যাংকে যৎসামান্য টাকা জমানো ছিল। তাও শেষ। তবে এখানেই যন্ত্রণার শেষ নয়, ডেভেলপার ও প্রশাসনের আইনি ঝামেলার জেরে ভাঙা পড়েছে মাথার ছাদ। কোনোমতে একটি ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে গোটা পরিবার। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে একরাশ হতাশা ঝড়ে পড়ল আনন্দের বাবার গলায়। তাঁর কথায়,‘ চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে আমাদের আর্থিকভাবে লুট করা হয়েছে। ছেলের মুখে একবার বাবা ডাক শুনব বলে সব বিক্রি করে দিয়েছি। প্রথমে হাসপাতাল বিলের নামে সব টাকা লুট করে নিল। বিমা করানো ছিল। কিন্তু, প্রয়োজনের সময় তারাও সাহায্য করল না। এর জেরে আরও ৫০ লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আইসিইউতে যখন ছেলের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছি, সেই সময় বৃহন্মুম্বই পুরসভা বাড়িটা ভেঙে দিল।’
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আনন্দের মা ছেলের সেরে ওঠার দিন গুনছেন। প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ‘ওর মোবাইল ও ঘড়ি সবসময় হাতের কাছে রেখে দিই। কিছু যদি মিরাকল হয়! আমি তার অপেক্ষাতেই বসে রয়েছি।’ ছেলের ঘরের চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে মহিলা আরও বলেন, ‘এই ঘর একেবারে শান্ত। কোনো শব্দ নেই। তবে মায়ের মন তো! মানতে চায় না। ওরা আমার ছেলের স্বাস্থ্য, বাড়ির ছাদ সব নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু, মায়ের বিশ্বাস কেড়ে নিতে পারবে না! আনন্দ সুস্থ হবেই। আমাকে মা বলে ডাকবে।’
২০২৩ সালে নতুন স্কুটার কিনেছিলেন আনন্দ। ২৯ ডিসেম্বর কুয়াশাছন্ন রাতে তাতে চড়েই বেরিয়েছিলেন রাস্তায়। সেদিনই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। তারপর থেকেই জীবন্মৃত অবস্থাতেই বিছানায় পড়ে রয়েছেন ৩৫ বছরের আনন্দ। ছেলে বিছানায় একভাবে পড়ে থাকলেও ‘অন্তহীন’ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাবা-মা।