


রায়পুর: আবগারি দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের মামলায় ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের ছেলে চৈতন্যকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ভিলাই শহরে বাঘেল পরিবারের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। ওই বাড়িতেই বাবার সঙ্গে থাকতেন চৈতন্য। ঘটনাচক্রে এদিনই ছিল তাঁর জন্মদিন। তল্লাশির কথা জানতে পেরেই সেখানে ভিড় জমান কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভ এড়াতে বিশাল পুলিস বাহিনী সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে খবর, আবগারি দুর্নীতি নিয়ে চৈতন্যের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নতুন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেই সব বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি সহযোগিতা করেননি। তাই চৈতন্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ছেলেকে গ্রেপ্তারির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভূপেশ। তাঁর দাবি, এদিন বিধানসভার অধিবেশনে আদানির কয়লাখনি প্রকল্পের জন্য গাছ কাটা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই বাড়িতে ইডি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জন্মদিনের উপহার পেল চৈতন্য। ছত্তিশগড়ের ভূপেশ বাঘেলের মুখ্যমন্ত্রিত্বে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আবগারি ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ইডির। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ তাদের। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির দাবি, এই দুর্নীতির ফলে রাজ্য সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর ‘লিকার সিন্ডিকেট’ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছে। এই টাকার অন্তত মধ্যে অন্তত ১৭ কোটি টাকা চৈতন্যের পকেটে ঢুকেছে। এছাড়া ইডি জানিয়েছে, অন্তত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার লেনদেন তাদের নজরে রয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে এই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী কাওয়াসি লাখমা সহ সহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এক প্রাক্তন আইএএস অফিসার ও ভারতীয় টেলিকম সার্ভিসের এক আধিকারিকও। ভূপেশ বাঘেল এক্স হ্যান্ডল লেখেন, রায়গড় জেলার তামনার এলাকায় কয়লা খনি প্রকল্পের জন্য প্রচুর গাছ কাটা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিধানসভায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তাই বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। চৈতন্যের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে অধিবেশন বয়কট করে কংগ্রেস।