


সংবাদদাতা, তেহট্ট: মঙ্গলবার পলাশীপাড়া থানার ঈশ্বরচন্দ্রপুর এলাকায় ‘কুলুইতলার মেলা’কে ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। মূলত একটি কুলগাছকে কেন্দ্র করে এই পুজো ও মেলা হয়। শোনা যায়, এই পুজো নাকি ২০০বছরেরও বেশি প্রাচীন। পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে। আশপাশের গ্রামগুলি থেকেও বহু মানুষ পুজো দেখতে আসেন। পুজো শেষে সমস্ত ভক্তের জন্য ছিল খিচুড়ির ব্যবস্থা।
কথিত আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে এই এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। সেই সময় কোনও এক সাধু স্বপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলের মধ্যে একটি কুলগাছে এই পুজো শুরু করেন। এখানে মাতৃশক্তির আরাধনা হয়। চারপাশে বাড়ি তৈরি হলেও, কুলগাছ সংলগ্ন এলাকায় এখনও বড় বড় বটগাছ রয়েছে। বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবারে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোয় অনেকে গোপাল দেন। এখানে সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদের পুজো দিতে পারেন। এলাকার মানুষজনের বিশ্বাস, এখানে দেবী খুবই জাগ্রত। তাই অনেকেই বিভিন্ন মনোস্কামনা নিয়ে এখানে মানসিক করেন। সেই মানসিক সফল হয় বলেই তাঁদের বিশ্বাস। মনোস্কামনা পূরণ হলে তাঁরা নিজেরাই ওই কুলগাছতলায় যার যা মানসিক তা দিয়ে দেন।
গ্রামের বাসিন্দা সন্ন্যাসী মণ্ডল বলেন, এই পুজো ২০০বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসে। এই পুজো ঘিরে নানা নিয়মকানুন রয়েছে। গ্রামে কোনও বাড়িতে শুভ অনুষ্ঠান হলে প্রথমে এই কুলগাছতলায় চিনি, দুধ বা যার যা সামর্থ্য তাই দিয়ে যান। এদিন পুজো ঘিরে মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে চোখে পড়ার মতো। সারাদিন পর এখানে প্রসাদ বিলি হয়। এই পুজো একদিনই হয়। মঙ্গলবারই এই পুজোর শুরু ও শেষ। পুজোকে কেন্দ্র করে এখানে মেলা বসে।