


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার পাড় ভাঙন রোধ তথা বন্যা নিয়ন্ত্রণে কেন উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি? শুক্রবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সোচ্চার হল তৃণমূল। নজিরবিহীনভাবে বাংলার তৃণমূল সাংসদের পাশে দাঁড়াল বিজেপি। স্বয়ং কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপির রাজীবপ্রতাপ রুডি বাংলার জন্য সরকারকে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন বলেই খবর। এমনকী জলসম্পদ উন্ননয়ন মন্ত্রক এবং বন্যা নিয়ন্ত্রক কমিশনের আধিকারিকদের তাঁর ভৎর্সনার মুখেও পড়তে হয় বলেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের ১৩ শতাংশ এলাকা বন্যাপ্রবণ। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়ায় মূলত গঙ্গার পাড় ভাঙার জেরে বন্যা কবলিত হয়। রতুয়া, মানিকচক, কালিয়াচক, ধুলিয়ান, ভগবানগোলার মতো এলাকায় প্রভাব পড়ে। তাই পশ্চিমবঙ্গে ১৬টি প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে। তিনটির কাজ চলছে বলেই বৈঠকে জলসম্পদ মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানান। যদিও সংসদীয় কমিটির সদস্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার ‘এটি মোটেই যথেষ্ট নয়’ বলেই প্রতিবাদ করেন বলেই বিশ্বস্ত সূত্রে খবর।
তিনি বলেন, উপযুক্ত বাঁধ না হওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গঙ্গাসাগর, সুন্দরবন এলাকার জন্য মন্ত্রকের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। এই কমিটিতে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য মৌসম বেনজির নুর ও রাজ্য কংগ্রেসের একমাত্র সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীও রয়েছেন। তাঁদের এলাকা মালদহও ক্ষতিগ্রস্ত। তবুও এদিন উভয়ের কেউই বৈঠকে আসেননি। সূত্রের খবর, বাপি হালদার সরব হতেই বিহারের সাংসদ তথা কমিটির চেয়ারম্যান রাজীবপ্রতাপ রুডি সরকার এবং গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল কমিশনের আধিকারিকদের চেপে ধরেন। বলেন, জার্মানি বা ইতালির মডেল কেন অনুকরণ করা হয়নি? যেখানে নদীর পাড় ভাঙা রুখতে তিনস্তরীয় বাঁধ নির্মাণ হয়। সরকার অর্থ বরাদ্দ করবে কি না, তা না ভেবে আপনারা পরিকল্পনা তো নিতে পারতেন। এভাবে বছরের পর বছর বন্যা হবে আর তা রুখতে উপযুক্ত তথা স্থায়ী কোনও সমাধান হবে না, তা তো হতে পারে না।