


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রামে অগ্নিকাণ্ডের পর রেস্তরাঁ মালিক বিকাশ মালিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত এবং উপযুক্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না রাখার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার বিকাশকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার তোলা হয়েছিল বারাসত আদালতে। বিচারক পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্য একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে মধ্যমগ্রামের দোলতলায়। একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে আগুন লাগে।
বুধবারের ঘটনায় আগুনে ঝাঁফ দিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজ করেছিলেন প্রীতম ঘোষ নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। সিলিন্ডার ফেটে তিনি গুরুতর জখম হন। বুধবার রাতে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি।
এখন ঘটনাস্থল কার্যত ধ্বংসস্তূপ। গোলার কাঠ, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানের আসবাব, জুতোর দোকানের জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। সর্বত্র ছিটিয়ে রয়েছে পোড়া টিন, ইট। একদিন আগেও জায়গাটি ছিল কর্মব্যস্ত। ক্রেতাদের আসা যাওয়া ছিল। বৃহস্পতিবার সেখানে ঝুলছে বিদ্যুতের পোড়া তার। পাশের কয়েকটি নারকেল গাছ পুড়ে গিয়েছে। ১৭টি দোকান ছিল ওই জায়গায়। এখন সেগুলির চিহ্ন নেই। ক্ষতিগ্রস্থ দোকানগুলির অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে গিয়েছে। এলাকাটি ব্যারিকেড ও টেপ দিয়ে ঘিরে দিয়েছে পুলিশ। কিছু মানুষ ভিড় করে এসে ছবি তুলছেন। পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ঘটনাস্থলটি এখন যেন পর্যটনস্থল। পাশের রেলবস্তিতে ১০০ পরিবারের বাস। মাঝখানে দু’ফুটের রাস্তার ব্যবধান। বস্তির বাসিন্দারা এদিন ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অঞ্জু মণ্ডল ও কাজল মণ্ডল নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরাও আগুন নেভানোর কাজ করেছি। যেভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল ভেবেছিলাম আমাদের বাড়িও পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও টাকাকড়ি নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।’ রীতেশ সিনহা নামে আর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘দমকল তৎপর না হলে আর পাশের ক্লাবের ছেলেরা কয়েকটি সিলিন্ডার বের করে না আনলে আগুন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠত।’ মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে পুলিশ, পুরসভা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হবে।’ মধ্যমগ্রাম থানা জানিয়েছে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শনে আসবেন। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের জায়গা ব্যারিকেড করা হয়েছে। অন্যদিকে দোলতলায় বহুতল আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে দুপুরে বৃহস্পতিবার আগুন লাগে। সে সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। আতঙ্কে ব্লকের অন্যান্য বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বাসিন্দারাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। মধ্যমগ্রাম ফায়ার স্টেশনের দু’টি ইঞ্জিন ঘণ্টা দু’য়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড বলে অনুমান। দমকলের আধিকারিক শুভজিৎ লোধ বলেন, ‘ফ্ল্যাটে অগ্নি নির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।’