


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তারাপীঠ এবং কলকাতার হোটেলে পরপর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেল, রেস্তরাঁগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হোটেলগুলিতে অভিযান চালানোর কথা আগেই জানিয়েছিল দমকল। সেইমতো মঙ্গলবার সাঁতরাগাছি স্টেশন সংলগ্ন কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান চালাল দমকল। সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভা ও পুলিশের আধিকারিকরাও।
এদিনের অভিযানে সাঁতরাগাছি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মোট ২৬টি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। অগ্নিনির্বাপণের জন্য কী কী আপৎকালীন ব্যবস্থা রয়েছে, তা দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত কর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়। একইসঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে নিয়মিত ফায়ার অডিট করানোর বিষয়েও মালিকদের নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। হাওড়া ফায়ার স্টেশনের আধিকারিক অরিজিৎ দাস বলেন, ‘আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এখনও যেসব হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু করতে বলা হয়েছে।’
দমকলের তরফে হোটেলগুলির ভিতরে ফায়ার অ্যালার্ম, স্প্রিংকলার এবং ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগুন লাগলে যাতে আতঙ্কের মধ্যে আটকে পড়া মানুষ দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারেন, তার জন্য সিঁড়িতে ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখার কথাও বলা হয়েছে। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র সরঞ্জাম রাখা নয়, সেগুলি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কি না, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত মেরামত বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাঁতরাগাছির আগেই হাওড়া শহর, বালি, বেলুড় ও লিলুয়া এলাকার একাধিক হোটেল-লজে অভিযান চালিয়েছে দমকল। সেইসব অভিযানেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে নিয়ম না মেনে হোটেল চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ফলে একের পর এক এলাকায় দমকলের এই নজরদারিতে হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়ছে সচেতনতা। সাঁতরাগাছির এক রেস্তরাঁর কর্ণধার জানান, ‘কিচেনে সবসময় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে হয়। পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকলে পাশাপাশি একাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে। তাই প্রত্যেককে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’