


সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ন’টি ময়ূর জাল দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়ার একদিন পরেও বিএলএলআরও অফিস চত্বরে যাওয়ার সময়ই পেলেন না বনদপ্তরের আধিকারিকরা। কোনও লিখিত অনুমতি ছাড়াই ময়ূরগুলি সেখানে রাখা হয়েছে বলে স্বীকার করে নেন বিএলএলআরও নিজেও। কিন্তু, বনদপ্তরের আধিকারিকদের কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি অফিস চত্বরে অনিয়মের ঘটনা বলেই বনদপ্তরের আধিকারিকরা উদাসীন। দ্রুত ময়ূরগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁরা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আড়ষার বিএলএলআরও অফিস চত্বরে ন’টি ময়ূরকে জাল দিয়ে ঘিরে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার এবিষয়ে পুরুলিয়ার ডিএফওকে লিখিত অভিযোগ করেন কংগ্রেস সেবা দলের সভাপতি পার্থসারথি দাস। অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। ওইদিনই ডিএফও আড়ষার রেঞ্জারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠান বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঘটনার পর মঙ্গলরবার বিকেল পর্যন্ত বনদপ্তরের কোনও আধিকারিক বা কর্মী আড়ষার বিএলএলআরও অফিস চত্বরে যাননি। সরকারি অফিস চত্বরেই অনিয়মের ঘটনায় বনদপ্তরের এই উদাসীনতা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।
আড়ষার রেঞ্জার আনোয়ার সাদাফ বলেন, সোমবারই ডিএফও বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। বিডিও তদন্ত করতে বলেছেন। তবে মঙ্গলবার একটি বৈঠক থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি একমাস আগে আড়ষায় এসেছি। নিজের চোখে না দেখে কিছু মন্তব্য করব না। বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়া ময়ূর রাখা যায় না। তারা অনুমতি নিয়েছে কি না জানি না। আড়ষা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি বলেন, ময়ূর থাকার বিষয়টি জানলেও এতগুলি ময়ূর আছে জানতাম না। সিরকাবাদের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় অফিসটি অবস্থিত। অনেক ময়ূর ঘোরাঘুরি করে। ব্লক অফিসের বাইরে চায়ের দোকানের কাছেও ময়ূর ঘোরাঘুরি করে। তবে তাদের আটকে রাখা ঠিক নয়। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে বলব।
আড়ষার বিএলএলআরও সুশোভন মণ্ডল বলেন, প্রায় ১০ মাস আগে অযোধ্যা পাহাড় থেকে আসার পথে লোকজন কয়েকটা ময়ূরের বাচ্চা পেয়েছিল। এই অফিস চত্বরে আরও বেশকিছু পাখি রয়েছে। তাই ওরাই অফিস চত্বরে ময়ূরের বাচ্চাগুলি রেখে দিয়েছিল। ময়ূরগুলিকে যত্ন করে নিয়ম মেনেই রাখা হয়েছিল। বনদপ্তরকে বিষয়টি জানানো ছিল। তবে লিখিত অনুমতি ছিল না। সিরকাবাইদ এলাকায় এরকম অনেক জায়গাতেই ময়ূর রয়েছে। ওরা ঘুরে বেড়ায়। তবে বিষয়টি নিয়ে যখন অভিযোগ হয়েছে তাই বনদপ্তরের যা নিয়ম রয়েছে, তা মেনে চলা হবে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বনদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলা হবে।