


নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসন। শনিবার এক মালয়ালম সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ২০১৬ সালের। বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জিজি বলেন, ‘সে সময় জ্ঞানেশ ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পদস্থ আমলা।’ থমসনের অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা লেখেন, ‘জ্ঞানেশকে দিয়ে প্রার্থী বাছাই থেকে নির্বাচনে গড়াপেটা করানো হয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘প্রথমে তৎকালীন আইএএস আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে বিজেপি প্রার্থী বাছাই করিয়েছে। এরপর নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ তাঁকে আম্পায়ার করে। ভারতের নির্বাচনকে গড়াপেটার কাজে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছে।’ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের হুঁশিয়ারি, ‘অবাধ নির্বাচন আমরা করাব।’ পালটা বিজেপি এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করে জিজি থমসনের অতীত ও তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেরলের সিভিল সাপ্লাই দপ্তরের ডিরেক্টর থাকার সময় জিজির আমলেই পামোলিন আমদানি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমন একজনের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে জ্ঞানেশকে নিশানা করার জন্য কংগ্রেসের সমালোচনা করেছে বিজেপি।
সাক্ষাৎকারে অবশ্য জ্ঞানেশকে ‘বন্ধু’ বলেই সম্বোধন করেছেন জিজি থমসন। সেদিনের বিমানযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ আমাকে জিজ্ঞাসা করল, অবসর পরবর্তী আমার পরিকল্পনা কী? আমি বললাম, শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।’ উল্লেখ্য, সেসময় জিজি কেরলের মুখ্যসচিব ছিলেন। ২০১৬ সালেই তাঁর অবসরের কথা ছিল। এরপরেই ভোটে লড়ার জন্য জিজিকে জোরাজুরি করেন জ্ঞানেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে জিজিকে কেরলের পথানমথিট্টা লোকসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেন। জিজির দাবি, জ্ঞানেশ তাঁকে বলেন, ভোটে জিতলে তিনি কেন্দ্রের মন্ত্রীও হতে পারেন। তবে রাজনীতিতে অনিচ্ছুক হওয়ায় তিনি সরাসরি জ্ঞানেশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একজন কর্মরত সরকারি আমলা হিসাবে জ্ঞানেশ কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রার্থী সংগ্রহের কাজ করছেন, তাই নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন জিজি। বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ।