


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শনিবার রাতে জয়পুরের সলদা এলাকায় বেপরোয়া লরির পরপর ধাক্কায় দু’টি বাইকের চার আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম অনন্ত সাঁতরা(১৯), পল্লব সাঁতরা(২০), উজ্জ্বল বায়েন(২৪) এবং রানা ওরফে বাপি রুইদাস(২৩)। প্রথম তিনজনের বাড়ি জয়পুরের সুপুর গ্রামের মেটেপাড়ায়। শেষের জনের বাড়ি জয়পুর থানার কাঞ্চনআইরি গ্রামে। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সৌরভ রুইদাস জখম হন। তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। জোরালো আঘাত থাকলেও তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। পলাতক থাকায় পুলিশ ঘাতক লরি ও চালকের খোঁজ চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবার পরিজনরা শনিবার রাতেই বিষ্ণুপুর হাসপাতালে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন। রবিবার মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে দু’টি বাইকে ওই পাঁচ যুবক জয়পুরে বেড়াতে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁরা বিষ্ণুপুর-আরামবাগ রোড ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। সলদা এলাকায় যাওয়ার সময় উলটো দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি লরি পরপর দু’টি বাইকে ধাক্কা মারে। তাতে দু’টি বাইকের পাঁচ আরোহী রাস্তার ধারে ছিটকে পড়েন। পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে জয়পুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দু’জনকে জখম অবস্থায় বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। রবিবার ভোরের দিকে অপর একজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় জখম সৌরভ রুইদাস হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন, আমি এবং রানা দু’জনে একটি বাইকে করে জয়পুর থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ একটি লরি এসে সামনে থাকা একটি বাইকে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে আমাদের বাইকেও ধাক্কা মারলে ছিটকে পড়ে যাই। তারপর আর কিছু মনে নেই। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে।
মৃত অনন্ত সাঁতরার বাবা শ্রীকান্ত সাঁতরা বলেন, আমার ছেলে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ জয়পুর যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। ওর বাইকে আমারই এক ভাইপো পল্লব সাঁতরা এবং গ্রামেরই আরও এক যুবক উজ্জ্বল বায়েন ছিল। পৌনে ১১টা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পাই। ছেলে মাধ্যমিক পাশ করার পর রঙের কাজ করত। সব শেষ হয়ে গেল।
মৃত পল্লব সাঁতরার বাবা বাবুল সাঁতরা বলেন, দেড় বছর আগে ছেলের বিয়ে হয়। ওইদিন রাতে দুর্ঘটনার খবর পাই।
মৃত উজ্জ্বল বায়েনের বাবা সমীর বায়েন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছেলে ধানকাটা মেশিন চালাত। রাতের দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু সেটাই তার শেষ বেরনো হবে বলে বুঝতে পারিনি।
মৃতদের আত্মীয়রা বলেন, দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা সকলেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বেপরোয়াভাবে লরি চালানোর জন্য চারটি তাজা প্রাণ চলে গেল। আমরা চাই অবিলম্বে ঘাতক লরির চালককে গ্রেপ্তার করা হোক। সেই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে যাতে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় সেই দিকটিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখতে হবে।