


সোমনাথ বসু: সোমবার সকাল থেকেই ডালসের আকাশের মুখ ভার। বাজ পড়ছে অহরহ। পার্ক রোডের সামনে এক কাফেতে বসে একঝাঁক ফরাসি সমর্থক। ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিতে ব্যস্ত অনেকেই। একটু দূরে বিরাট বড়ো জাতীয় পতাকা নিয়ে স্প্যানিশ অনুরাগীরা। মঙ্গলবার যে এখানেই বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি ইউরোপের দুই প্রতিবেশী দেশ। স্প্যানিশ আর্মাডা ভাঙতে শেষ মহড়ায় ভুলত্রুটি শুধরোচ্ছেন এমবাপেরা। আর ফরাসি বধের ছক কষতে ব্যস্ত ইয়ামালরা।
চলতি প্রতিযোগিতায় দর্শনীয় ফুটবল উপহার দিয়েছে স্পেন। কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তের প্রশিক্ষণে সংঘবদ্ধ দেখাচ্ছে ওলমো-রড্রিদের। ছ’টি ম্যাচে মাত্র একবার জাল কেঁপেছে তাঁদের। কুবার্সি-লাপোর্তেরা জানেন, গতিময় ফ্রান্সকে রুখতে তাঁদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। গত দু’টি সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সকে বশ মানিয়েছে স্পেন। মাঝমাঠের দখল রেখে ছোটো ছোটো পাসে আক্রমণ শানায় ফুয়েন্তে-ব্রিগেড। নিকো উইলিয়ামস ফিট হয়ে ওঠায় স্প্যানিশ আর্মাডার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কিন্তু জয় ছাড়া যে অন্য কোনোকিছুই ভাবছে না ফ্রান্স। কারণ একটাই। দুরন্ত ফর্মে এমবাপে। পকেটে ৮টি গোল, ৩টি অ্যাসিস্ট। দৌড় শুরু হলে তাঁকে থামানো যাচ্ছে না। কোমরের মোচড়, ডজের বিচ্ছুরণে হুউউউশ করে পিছনে পড়ছে বিপক্ষ। আর ফরাসি তারকাকে সাহায্য করার জন্য তৈরি ডেম্বেলে, ওলিসে এবং ডুয়ে। এই চতুর্ভুজই কোচ দেশঁর চালিকাশক্তি। অনেকেই এই দলকে পাঁচের দশকের হাঙ্গেরির ম্যাজিক্যাল ম্যাগিয়ার্সের সঙ্গে তুলনা করছেন। গ্যালপিং মেজর ফেরেঙ্ক পুসকাসের সঙ্গে হিদেকুটি, ককসিস এবং জিবরের টেলিপ্যাথিক বোঝাপড়া সেই দলকে অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। বলাই বাহুল্য, ফ্রান্সের এই দলের পুসকাস হলেন এমবাপে। খেলার ধরনে অমিল থাকলেও লক্ষ্য একই, বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা। ডেম্বেলে, ওলিসে, ডুয়ে কিংবা বারকোলাকে মাঠে তিনিই নেতৃত্ব দেন। তাঁর জন্যই কোচ হিসাবে দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের জাল বুনছেন দেশঁ।
সেমি-ফাইনাল মানেই টানটান উত্তেজনা। ‘এমবাপে বনাম ইয়ামাল’— এই ক্যাচলাইনই এই ম্যাচের উত্তাপ বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। তবে স্পেন দলগত সংহতিতেই বিশ্বাসী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ফ্রান্সের রক্ষণ এখনও পর্যন্ত তেমন চ্যালেঞ্জ সামলায়নি। মঙ্গলবার মাঠে ওলমোরা তিকি-তাকার সার্থক রূপায়ণ ঘটাতে পারলে সমস্যায় পড়বেন কৌন্দেরা। দেশঁ জানেন, গোলের জন্য এমবাপেরা থাকলেও রক্ষণ অটুট রাখা দরকার। উলটোদিকে, ধুরন্ধর ফুয়েন্তে তাঁর তরুণ ব্রিগেডকে চাপমুক্ত রেখেই ফাইনালে পৌঁছানোর নীল-নকশা আঁকছেন।
ডালাসে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। তবে তা সমর্থক উত্তাপের তাল কাটতে ব্যর্থ। এমবাপে, ইয়ামালের কাট-আউট নিয়ে ড্রাম-বিউগলে তাঁরা রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টা পর একদলের সঙ্গী হবে চোখের জল। আর অন্যরা? ফাইনালের আনন্দে আত্মহারা।
কাউন্টডাউন বিগিনস...।