


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বাংলায় সেই পালাবদলের বয়স মাত্র তিন মাস। ক্ষমতায় আসার আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগ তুলত বিজেপি। কিন্তু, পালাবদলের পরও দিকে দিকে তোলাবাজির অভিযোগ! কোথাও কোথাও নাম জড়াচ্ছে বিজেপি নেতাদেরও। তা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নেতৃত্ব। এই অবস্থায় তোলাবাজি ইস্যুতে মাঠে নামলেন সল্টলেকের নীচুতলার বিজেপি কর্মীরা। করুণাময়ী মোড়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তাতে লেখা— তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি! বিজেপি কর্মীদের দাবি, যাঁরা তৃণমূল থেকে তাঁদের দলে ঢুকেছেন, তাঁরাই তোলাবাজি করছেন। তবে, বিজেপির কেউ যদি তাঁদের সমর্থন করেন, তাহলে তাঁরাও ডিমভাজি খাবেন।
পালাবদলের পর সল্টলেকের তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত সহ বিধাননগর পুরসভার সাত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আরও বহু নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কেউ জামিন নিয়েছেন, কেউ বা পলাতক। এই অবস্থায় বিজেপির বিরুদ্ধে দিকে দিকে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। দলীয় নেতৃত্ব তোলাবাজি বন্ধ করার ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু, তারপরেও নানা জায়গা থেকে আসছে এমন অভিযোগ। সেই তোলাবাজি নিয়ে বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের মনোভাব কী, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সল্টলেকের কর্মীরা।
এদিন সকালে সল্টলেকের গুরুত্বপূর্ণ করুণাময়ী মোড়ে ওই ব্যানার টাঙাতে দেখা যায়। তাতে ডিমের ছবি দিয়ে বড়ো হরফে লেখা, ‘তোলাবাজি করলে ডিমভাজি ফ্রি’। তার উপরে ছোটো হরফে লেখা হয়েছে, ‘দলের তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেই তোলাবাজি চলছে বেড়েই।’ এই ব্যানার যাঁর নেতৃত্বে টাঙানো হয়েছে, তিনি সল্টলেকের সক্রিয় বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পইরা। এর আগে সব্যসাচীকে কোর্টে তোলার সময় তাঁকে গোবর হাতে বিধাননগর উত্তর থানায় দেখা গিয়েছিল। অরূপ বিশ্বাসকে জেরার জন্য বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ডাকা হলে তাঁকে ফুটবল হাতে দেখা গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করা নিয়ে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
ব্যানারের বিষয়ে সঞ্জয়বাবু বলেন, কোনো দাদা বা দিদি ধরে যাঁরা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসছেন, তাঁরাই মূলত তোলাবাজি করছেন। কারণ, তাঁরা এতদিন তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট করে এসেছেন। তাই আমরা এই ব্যানার দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি। তোলাবাজি করলেই কাঁচা বা সিদ্ধ নয়, এবার ভাজা ডিম। বিজেপির কেউ যদি ওই তোলাবাজিকে সমর্থন করেন, তাহলে তাঁকেও ডিম ভাজা খেতে হবে।