


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঐতিহ্যবাহী রথেও ‘লেডিস ফার্স্ট’! হুগলির সাবেক রীতি সেই ইঙ্গিতই দেয়। নামে জগন্নাথের রথ। কিন্তু রীতি অনুসারে রথে সবার আগে ওঠেন জগন্নাথদেবের বোন সুভদ্রা। সবশেষে আরোহণ করেন জগৎপ্রভু।
প্রাচীন এই রীতিতেই জগন্নাথের রথের চাকা মাসির বাড়ির দিকে গড়ায়। হুগলির মাহেশে ৬২৯ বছর ধরে আর গুপ্তিপাড়ায় প্রায় ২০০ বছর পার করে দেবী সুভদ্রাকেই আগে রথে আরোহণ করানো হয়। গুপ্তিপাড়ায় তারপর বলভদ্র ও জগন্নাথ রথারোহণ করেন। কিন্তু মাহেশে একটু ভিন্ন নিয়ম। সেখানে বলভদ্র ও জগন্নাথ একসঙ্গে ওঠেন রথে। সবার প্রথম রথে স্থাপন হয় নারায়ণস্বরূপ শালগ্রাম শিলা। তারপরই ওঠেন সুভদ্রা।
একদিকে রীতি অন্যদিকে ঐতিহ্য। তা গায়ে মেখে আজ, শুক্রবার জগৎপ্রভুর রথের চাকা গড়াবে মাসির বাড়ির দিকে। জগৎপ্রভু লীলার অঙ্গ হিসেবে সেখানে চলবে নানা অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যেই প্রচুর ভক্ত সমাগমের ইঙ্গিত পেয়েছে প্রশাসন। পুলিস মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করেছে। মাহেশে ছয়স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। থাকছে ছ’টি ওয়াচ টাওয়ার। অন্য জেলা থেকে এসেছেন একাধিক অফিসার। সাদা পোশাকের পুলিস, ড্রোন ব্যবহার করে রথযাত্রায় নিরাপত্তা দেবে পুলিস। জানা গিয়েছে, প্রায় এক হাজার পুলিসকর্মী ভিড় ও নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি গ্রামীণ পুলিসের অধীনে থাকা বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায় রথযাত্রার নিরাপত্তাতে থাকছে বড় বাহিনী। দুই এলাকাতেই জলপথে বিশেষ নজরদারি চলবে। মাহেশ এবং গুপ্তিপাড়াতে জলপথে নদীয়া থেকে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়।
মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারি বলেন, ‘জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মধ্যে দেবী সুভদ্রাকেই আগে রথে বসানো হয়। ৬২৯ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী মাহেশে সেই প্রথাই চলছে। বস্তুত সর্বযুগেই নারীর বিশেষ সম্মান ছিল। হয়তো সেটাই প্রথার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’ গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, ‘দেবী সুভদ্রাকেই আমরা আগে রথে স্থান করে দিই। জগন্নাথপ্রভুর রথ হলেও দেবী আগে রথে ওঠেন।’ সেই সাবেক রীতি রেওয়াজেই আপামর মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় রথযাত্রা হবে হুগলিতে। ভাজা পাঁপড় বা জিলিপির গন্ধ মিশে থাকবে। আর ‘লেডিস ফার্স্ট’ রীতিতে সম্মানজ্ঞাপন হবে মহিলাদের প্রতি।