


মেক্সিকো সিটি: রাউল গিমেনেজ! নামটা কেবল বিশ্বকাপের রেকর্ড বুকেই জায়গা পাবে না, থাকবে রূপকথার বইতেও। কাপ যুদ্ধের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার উদ্বোধনী ম্যাচ জিতল মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারাল তারা। একটি গোল গিমেনেজের। কিন্তু একটা সময় তাঁর মাঠে নামা নিয়েই ছিল সংশয়। ২০২০ সালের কথা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন মাথার খুলি দু’ফাঁক হয়ে যায় গিমেনেজের। বেঁচে থাকাই ছিল সংশয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ফুটবল পায়ে আর মাঠে নামা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু নিয়তি বলেছিল অন্য কথা। অসম্ভবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথায় স্কাল ব্যান্ড পরে ফিরেছিলেন মাঠে।
না, ভাগ্যের নিষ্ঠুর বিড়ম্বনা এখানেই থেমে থাকেনি। চলতি বছরের মার্চ মাসে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তাঁর বাবা। কিন্তু ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং ভাগ্যের আঘাতকে নিজের অস্ত্র করে লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন গিমেনেজ। তারই পুরস্কার পেলেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে আসা আলভারাদোর সেন্টার হেড করে জাল কাঁপান ৩৫ বছরের ফরোয়ার্ড। অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তখন মেক্সিকান ঢেউ আছড়ে পড়েছে। সেই দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন গিমেনেজ। শূন্যে দু’হাত তুলে গোল উৎসর্গ করেন প্রয়াত বাবাকে।
সমর্থকদের চোখেও তখন অভিশাপ মুক্তির আনন্দাশ্রু। শুধু যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম জয়, তা নয়। ২০১০ সালের কাপ যুদ্ধের পয়লা ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে আটকে যাওয়ার বদলাও বটে। ম্যাচের ৯ মিনিটেই মেক্সিকোকে লিড এনে দিয়েছিলেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। মেগা আসরের প্রথম ম্যাচের রেকর্ডে এটি তৃতীয় দ্রুততম গোল। এছাড়া উদ্বোধনী ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডও একটি রেকর্ড। ফলে শেষ পর্যন্ত ৯ জনে খেলতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মেক্সিকো শেষ করল ১০ জনে। ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, ‘পরিকল্পিত পথেই জয় এসেছে। এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে হবে গ্রুপের বাকি ম্যাচে।’