


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাই। সেইসঙ্গে চাই পরিবেশ সচেতনতা। বিশেষ করে গাছ, সেটির বেড়ে ওঠা থেকে ফলধারণ— সবই শিক্ষার্থীদের জানা উচিত। এমন বহুমুখী ভাবনাকে মাথায় রেখেই এবার স্কুলে স্কুলে ফল চাষের উদ্যোগ নিয়েছে হুগলি জেলা উদ্যানপালন দপ্তর। ইতিমধ্যেই পাইলট প্রকল্পের জন্য একগুচ্ছ স্কুলকে বাছাই করা হয়েছে। সেইসব স্কুলের আঙিনায় আম, পেয়ারা, পেঁপে, লেবু, কলার মতো ফলের বাগান করা হবে। একদিকে জুটবে টাটকা, রাসায়নিকহীন সুন্দর, সতেজ ফল, সেইসঙ্গে মিলবে পরিবেশ নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বাছাই করা স্কুলগুলির হাতে এক হাজার গাছের চারা তুলে দেবে হুগলি জেলার উদ্যানপালন দপ্তর।
এই পরিকল্পনায় খুশি হুগলি জেলা উদ্যানপালন বিভাগের আধিকারিক শুভদীপ নাথ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা একটা ছিলই। স্কুল শিক্ষাদপ্তর ও সমগ্র শিক্ষা মিশন এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখায়। তারপর আমরা আর সময় নষ্ট করিনি। রাজ্য থেকে উন্নতমানের ফল গাছের চারা পাঠানো হবে। আমরা বেশ কয়েকটি স্কুলকে নিয়ে দ্রুত প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করব। যেখানে সুযোগ থাকবে, সেখানে আমরা ফলের বাগান বানাতে চাইছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রকল্প খুব ভালো প্রভাব ফেলবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় হাসতে হাসতে বললেন, একাধারে শিক্ষামূলক, অন্যদিকে ফলদায়ক উদ্যোগ। আমরা উদ্যানপালন দপ্তর ও সমগ্র শিক্ষা মিশনকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনিক স্তরে সব রকমের সহযোগিতা মিলবে। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, প্রথম বছরেই শিক্ষার্থীর লেবু পেয়ে যাবে। তাতে মিড-ডে মিলের স্বাদ বাড়বে। তারপর ধীরে ধীরে পেয়ারা, কলা, আমের স্বাদ পাবে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ভাবনা, উদ্ভিদের জীবনচক্রের প্রত্যক্ষ জ্ঞান মিলবে। আমরা এক ঢিলে এক গুচ্ছ পাখি মেরে দেওয়ার ভাবনাকে রূপায়ণ করতে যাচ্ছি। পুজোর আগেই বাগানে গাছ বসে যাবে।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সম্প্রতি স্কুলে স্কুলে আদা ও রসুন চাষের উদ্যোগ নিয়েছিল। মূলত, আদা ও রসুনের ফলন বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্প রূপায়ণের পর্বেই ফলের বাগান তৈরি নিয়ে ভাবনা শুরু করে উদ্যানপালন দপ্তর। কৃষকদের ফলের গাছের চারা নিয়মিত দেওয়া হয়। পাশাপাশি, স্কুলের জমিকে ব্যবহারের ভাবনা ভেবেছিলেন কর্তারা। সেই উদ্যোগে সায় দেয় সমগ্র শিক্ষা মিশন। তারপরেই সলতে পাকানোর কাজ শুরু। বিভিন্ন স্কুলের গ্রিন ক্লাবের সঙ্গে বৈঠক করেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্তারা। তারপরেই তৈরি হয় মূল পরিকল্পনার রূপরেখা। এখন শুধু ফলদায়ী গাছ রোপণের পালাটুকুই বাকি।