


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চীনা রোবোডগ নিজেদের তৈরি বলে দাবি করে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছে গ্রেটার নয়ডার গালগোটিয়াস ইউনির্ভাসিটি। দিল্লির এআই সামিটে দেশবিদেশের অভ্যাগতদের সামনে এই ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে ওই বেসরকারি ইউনিভার্সিটির অনুমোদনই বাতিল করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে সরকারি স্তরে। আর এই সাজা আটকাতে মরিয়া ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের মুখে এবার শোনা যাচ্ছে ঘটনার অন্তর্তদন্তের কথা। শিক্ষামন্ত্রকের কাছে তাদের কাতর আবেদন, কোনো পদক্ষেপ করার আগে অন্তত তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক। আমাদেরই ভুল হয়েছে। কিন্তু কার বা কাদের জন্য এই ভুল, তা খুঁজে বের করা হবেই। জনাকয়েকের জন্য গোটা প্রতিষ্ঠানের বদনাম কেন হবে?
বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার নীতিনকুমার গৌর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা আমাদেরই ভুল এবং তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। সরকার বলা মাত্র এআই সামিট থেকে সরে এসেছি। কীভাবে এমন ভুল হল, তা আমরা তদন্ত করে দেখব। একইসঙ্গে এমন ভুল যাতে আর না হয়, তাও সুনিশ্চিত করতে হবে। তবে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক নেহা সিংকে এখনই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না। তদন্ত প্রক্রিয়া চলা পর্যন্ত তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে, এদিন বিষয়টি উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভাতেও। বিধানসভায় কলিং অ্যাটেনশনে সমাজবাদী পার্টির (সপা) বিধায়ক পঙ্কজ মালিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এআই সামিটে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই গোটা দেশকে কালিমালিপ্ত করেছে। তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই বিষয়টিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিজেপির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে এব্যাপারে সরব হয়েছেন শরিক দলের নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানও। এআই সামিটে এমন ঘটনাকে ‘গাফিলতি’ হিসাবেই উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এআই সম্মেলন শেষের পরেই এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করুক সরকার। অর্থাৎ, অভিযুক্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতরই হচ্ছে।