


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, মানিকচক: উথাল-পাথাল গঙ্গা। চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল। ফুঁসছে ফুলহার। এই পরিস্থিতিতে কেশরপুরের বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে হু হু করে গঙ্গার জল ঢুকছে একের পর এক গ্রামে। রবিবার আরও অবনতি হয়েছে মালদহের মানিকচকের বন্যা পরিস্থিতির। ভয়াবহ অবস্থা ভূতনিচরের। এদিন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে কার্তিকটোলা, পুলিনটোলা, গিরিধারীটোলা সহ বহু গ্রাম। জলমগ্ন গ্রামের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২। রাস্তাঘাট, চাষের জমি জলের তলায়। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। আগ্রাসী গঙ্গা কেড়ে নিয়েছে তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে। কেউ বা ত্রাণ শিবিরে। তবে এখনও অনেকে ভিটে ছাড়তে চাইছেন না। কেশরপুর, বসন্তটোলা ও কালুটোনটোলার প্রায় পাঁচশো পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বাঁধে। যেভাবে জলস্তর বাড়ছে, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে। ফলে দ্রুত বানভাসি এলাকা থেকে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য প্রশাসনের। দুর্গতদের সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াও চ্যালেঞ্জ তাদের। রবিবার জল ঢুকে যায় ভূতনি থানায়। ফলে থানা সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় ভূতনি ব্রিজে। সেখান থেকেই থানার কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং। এদিন ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ, জোয়েল মুর্মু ও বিরাজ বিশ্বাস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে। যদিও অভিযোগ, বাঁধে যাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা ত্রাণ পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন জলবন্দি মানুষজন। মানিকচকের উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও হীরানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রায় ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল। বলেছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। সবটাই মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, কয়েকদিনের মধ্যে ভূতনির পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে ভূতনির যা অবস্থা, সরকারিভাবে বন্যা ঘোষণার দাবি মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্রের। সেচ দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দিগন্ত মাইতি বলেন, আমরা দিনরাত এক করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। -নিজস্ব চিত্র