


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অপহরণের পর স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নিউটাউনের এবি ব্লকের ফ্ল্যাটেই খুন করা হয়েছিল। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে জেনেছে, স্বপনবাবুকে ওইদিন জনাছয়েক লোক মিলে বেধড়ক মারধর করে। কিল, চড়, লাথি, ঘুষি কোনও কিছুই বাদ যায়নি। শেষে লাঠি ও রড দিয়েও পেটানো হয় তাঁকে। তাতেই মৃত্যু হয় ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর। খুনে ব্যবহৃত রড, লাঠি প্রভৃতি কোথায় লুকোনো রয়েছে? তা উদ্ধারের জন্যই বিডিও-ঘনিষ্ঠ ধৃত বিবেকানন্দ সরকার ওরফে সোনাইকে হেপাজতে নিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। মক্কেল ‘নির্দোষ’ বলে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। যদিও ঘটনার তদন্ত এবং রড ও লাঠি উদ্ধারের জন্য পুলিশ তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত চেয়ে আবেদন করে। আদালত ৯ দিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর হয়েছে।
স্বপনবাবুকে খুনের ঘটনায় প্রথমে বিডিও-ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার-বন্ধু তুফান থাপা এবং বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ১২ দিনের পুলিশ হেপাজত শেষ হওয়ায় এদিন দুজনকে বিধাননগরে পেশ করা হয়েছিল। দুজনকেই ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে, এই খুনে ধৃত কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সজল সরকার এখনও পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। তাকে জেরা করে করেই মঙ্গলবার কোচবিহার থেকে বিবেকানন্দকে ধরা হয়। বিবেকানন্দ তার গাড়ি চালক।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের দিন অর্থাৎ, ২৮ অক্টোবর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে হাজির ছিল এই বিবেকানন্দ, ছিল সজলও। তাদের মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হবে। রড, লাঠি কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, পুলিশের অনুমান তা বিবেকানন্দ জানে। তাই তাকে নিয়েই পুলিশ সেসব উদ্ধার করতে চায়। এই ঘটনায় ধৃত চারজনের মোবাইল থেকে নানা তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তার মধ্যে রয়েছে কিছু ভিডিয়ো। তবে, ঘটনার পর ধৃতরা তা মুছে ফেলেছিল। সূত্রের খবর, ডিলিট করা ভিডিয়ো উদ্ধার করেছে পুলিশ। তা থেকেও মিলেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।