


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবশেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত! আর থাকছে না ১২ এবং ২৮ শতাংশের জিএসটি। এই পণ্য পরিষেবা করে থাকবে মাত্র দু’টি ‘স্ল্যাব’— ৫ এবং ১৮ শতাংশ। এতদিন বিভিন্ন পণ্যে মোট চারটি ধাপে জিএসটি কার্যকর ছিল। তা কমিয়ে দু’টি করার প্রস্তাব ছিল অর্থমন্ত্রকেরই। বৃহস্পতিবার জিএসটি কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে সেই প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে। এই নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে অন্তত ৯০ শতাংশ পণ্যের দাম যে কমবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত মন্ত্রিগোষ্ঠী। সুরাহার আশা মধ্যবিত্তেরও। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি কাউন্সিল। তামাক, তামাকজাত দ্রব্য অথবা বিলাসবহুল গাড়ির মতো পণ্যে জিএসটির সঙ্গে ক্ষতিপূরণ সেস বা ‘সিন ট্যাক্স’ যুক্ত করে দেওয়ার একটি ভাবনাও রয়েছে মন্ত্রিগোষ্ঠীর। সেক্ষেত্রে ওইসব পণ্যের জিএসটি ৪০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জিএসটি খাতে সামগ্রিক আয় কমবেই। তার ক্ষতিপূরণ কীভাবে করা হবে? এ নিয়ে কী ভাবছে অর্থমন্ত্রক? মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকেই উঠেছে সেই প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের অর্থদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টচার্য বৈঠকের পর দিল্লিতে বলেছেন, ‘নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বহু পণ্যের দাম কমবে। এটা জনস্বার্থের জন্য সুসংবাদ। কিন্তু অর্থমন্ত্রকের কাছে আমরা এটাও জানতে চাইছি যে, জিএসটি আদায়ের মোট লোকসান কত হবে? আর সেই লোকসান ঠেকাতে সরকার কী ভাবছে? আমাদের একটাই আশঙ্কা, এই ক্ষতিপূরণ করতে গিয়ে আবার ঘুরপথে কোনও শুল্ক আরোপ করা হবে না তো সাধারণ মানুষের উপর? সেটা স্পষ্ট হওয়া দরকার।’
এদিন মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে হওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ শতাংশের আওতায় থাকা ৯৯ শতাংশ পণ্যই চলে আসবে ৫ শতাংশ জিএসটির অধীনে। সেই তালিকায় থাকছে ওষুধ, কৃষিজাত পণ্য, খাদ্য, বস্ত্র, জুতো, গৃহস্থালির ব্যবহার্য, নিত্যব্যবহার্য পণ্য। আবার ২৮ শতাংশ জিএসটিভুক্ত পণ্যগুলিরও সিংহভাগ ১৮ শতাংশের আওতায় আসবে। নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য রয়েছে এই তালিকায়।
স্বাস্থ্য ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামকে জিএসটির আওতার বাইরে রাখার বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কমবেশি সব সদস্য জোর দিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও বিমা কোম্পানিগুলি যাতে এই সুরাহা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয় সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, প্রিমিয়াম যেন কমে যায়। ২০১৭ সালে চারটি ধাপের জিএসটি আদায়ের সিদ্ধান্ত চালু হওয়ার সময় থেকেই সরব ছিল বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য ছিল, কর কাঠামোকে এত জটিল করে দু’টি ধাপেই রাখা হোক জিএসটি। সেই সময় মোদি সরকার কর্ণপাত করেনি। আট বছর ধরে চার ধাপে আম জনতার থেকে উচ্চহারে জিএসটি আদায় করা হয়েছে। এতদিন পর টনক নড়ল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের!