


পাটনা, ১৭ জুলাই: দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বিহার! বিগত কয়েকদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনই প্রশ্ন করছেন অনেকে। কখনও ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন আবার কখনও রাজনৈতিক নেতার উপর হামলা। আবার কখনও আইনজীবীকে খুন। বিহারে ভোট যত এগিয়ে আসছে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য ততটাই বেড়ে যাচ্ছে। এবার পাটনার এক বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকে দাগি আসামিকে খুন করল দুষ্কৃতীরা। মৃতের নাম চন্দন মিশ্র। তিনি একাধিক খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রথমে বক্সার জেলে বন্দি ছিলেন। তারপরে সেখান থেকে তাকে ভাগলপুর জেলে পাঠানো হয়। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই শারীরিক অসুস্থতার জন্য প্যারোলে বাইরে ছিলেন ও চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন পাটনার ওই হাসপাতালে।
সূত্রের খবর, আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা চলছিল চন্দনের। এদিন সকালে একদল দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই ওই হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে পড়েন। সেখানেই চন্দনকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি ছুড়তে থাকেন তারা। হাসপাতালের বেডেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চন্দনের। তারপরেই হাসপাতালে থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই হাসপাতালে থাকা রোগীরা। এমনকী রোগীর পরিজনরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে দুষ্কৃতীদের। তাদের হাতে বন্দুক রয়েছে সেটাও দেখা যাচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিসের দাবি, চন্দনের বিরোধী গোষ্ঠীর লোকেরা এই কাজ করে থাকতে পারে। আর হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটায় নীতীশ কুমারের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে আরজেডি ও কংগ্রেস। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের প্রশ্ন, ‘কেউ কী এখানে সুরক্ষিত? সরকারের মদতে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুষ্কৃতীরা। হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে গুলি চালাচ্ছে। কেউ কী বিহারে সুরক্ষিত রয়েছেন? ২০০৫ সালের আগে বিহারে এইধরণের ঘটনা ঘটেছে?’ যদিও তেজস্বীর প্রশ্নকে পাত্তা দিতে নারাজ বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনহা। তিনি জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।’