


ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের মাটিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক আদৌ কি হবে? সময় যত এগচ্ছে, ধোঁয়াশা ক্রমশ বাড়ছে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, শনিবারই এই শান্তি বৈঠক হতে পারে। সেই মতো শুক্রবার পাকিস্তানে পৌঁছেও যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। জানা গিয়েছিল, আমেরিকার তরফে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার বৈঠকে যোগ দেবেন। আমেরিকার প্রতিনিধিরা এদিন সকালে ইসলামাবাদ রওনা দিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু কখন বৈঠক হবে, তা স্পষ্ট হয়নি। তার মধ্যেই ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, তাঁদের প্রতিনিধিদের আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার কোনো পরিকল্পনা নেই। শুক্রবার রাতে একই কথা জানিয়েছিলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেয়ি। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের পর্যবেক্ষণগুলি পাকিস্তানকে জানানো হবে।’ যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, তাঁরা তেহরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকেই আগ্রহী।
এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন আরাঘচি। সেখানে কোন পথে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এছাড়া হরমুজ প্রণালী খোলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ইরানের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন আরাঘচি। ইসলামাবাদ অবশ্য এখনও আশাবাদী যে, ইরান ও পাকিস্তান মুখোমখি বৈঠকে বসবে। কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে ইসলামাবাদ শহরকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এত কিছু ভাবতে নারাজ। তিনি শুক্রবার বলেন, ‘ইরান আমাদের প্রস্তাব দেবে। আমরা সেই প্রস্তাব ভেবে দেখব আমরা। সময় নিয়ে আমাদের কোনো চাপ নেই।’ বৈঠক নিয়ে চর্চার মাঝেই আমেরিকার সমুদ্র অবরোধ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনা। তারা জানিয়েছে, আমেরিকার যদি অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে ইরানের সেনা কতটা শক্তিশালী, তার প্রমাণ পাবে ওয়াশিংটন। এদিকে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। তাতে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। লেবাননের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি ট্রাক ও একটি বাইকের উপর হামলা চালায় ইজরায়েল। তাতেই চারজন মারা যান।