


আমেদাবাদ: বৃহস্পতিবারের সকালটা অন্যরকম ছিল। ভেজা চোখে মেয়ের ব্যাগগুলো গুছিয়ে দিচ্ছিলেন মা। মনটা ভালো নেই। তবুও গর্বে বুক চওড়া অটোওয়ালা সুরেশ খাতিকের। হবে নাই বা কেন। আজ স্বপ্নপূরণের দিন। এতদিন অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়িয়েছেন। এবার সে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। এম টেক করতে লন্ডনে যাচ্ছিলেন গুজরাতের হিমতনগরের বাসিন্দা পায়েল খাতিক। আত্মীয় পরিজনরাও ভিড় জমিয়েছিলেন। কারণ পরিবারে এই প্রথমবার কেউ বিদেশে যাচ্ছে। সকাল দশটার দিকে পায়েলকে বিমানবন্দরে ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন তাঁর মা, বাবা ও বোন। পৌঁছে ফোন করিস, মন দিয়ে পড়াশোনা করিস। সেই শেষকথা ছিল মায়ের। আমেদাবাদের রানওয়ে থেকে টেকঅফের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭। দুর্ঘটনার দু’দিন পেরিয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জলও শুকিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা। অপেক্ষা শেষবারের মতো মেয়ের দেহ দেখার।
পায়েলরা আসলে রাজস্থানের বাসিন্দা। পরের দিকে গুজরাতের হিমতনগরে থাকতে শুরু করেন। ছোট থেকেই মেধাবী পায়েল। বি টেক শেষ করে এম টেকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা। অটো চালিয়ে মেয়ের লন্ডনে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব ছিল বাবার পক্ষে। পায়েল নিজেও টিউশান পড়াতেন। কিন্তু সেই টাকায় তেমন কোনও বন্দোবস্ত করা যায়নি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষমেশ লোন পাওয়া যায়। আর সাত পাঁচ না ভেবে মেয়ের বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন বাবা।
‘লোন নিয়ে মেয়ের বিদেশে পড়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। কত স্বপ্ন ছিল। মেয়ে চাকরি পাবে। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। সব শেষ হয়ে গেল। মেয়েকে খুঁজে বের করতে ওরা আমার ডিনএ-র নমুনা নিয়ে গিয়েছে।’ চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন সুরেশ।