


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে উৎসব। অন্যদিকে মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। একদিকে আলোর রোশনাই, উচ্ছ্বাসের ফোয়ারা। অন্যদিকে প্রিয়জনকে বাঁচাতে হাসপাতালে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটে বেড়ানো। একদিকে রাত জেগে ঠাকুর দেখা। অন্যদিকে খাঁ খাঁ হাসপাতাল। কারণ, সিনিয়র চিকিৎসকরা ছুটিতে!
সেপ্টেম্বর থেকেই উৎসবের মরশুম। চলবে অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে লোকবলের অভাবে বা অবহেলায় যাতে হাসপাতালে ভর্তি একজনও মা বা সদ্যোজাতের মৃত্যু না হয়, তা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা, রাজ্য পরিবার কল্যাণ আধিকারিক, মা ও শিশু স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ দপ্তরের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এই বার্তা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক ওই বৈঠকে গত বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবরের মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর খতিয়ান তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, গত বছর উৎসবের মরশুমে এক লাফে মা ও শিশুর মৃত্যু বেড়ে গিয়েছে। এবারে যাতে এমন না হয়, তার জন্যই সর্বত্র পুজোকেন্দ্রিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে স্ত্রীরোগ বিভাগে সিনিয়র ডাক্তার ও কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেই রোস্টার বানাতে হবে। দায়িত্ব বন্টন না করে ছুটিছাটা নেওয়া যাবে না। হাসপাতালে ভর্তির আগে পর্যন্ত প্রসূতিদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় সূচকের থেকে বেশি মাতৃমৃত্যুর হার রীতিমতো অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে রাজ্যের কাছে। এই অবস্থায় রাজ্য বাড়তি সতর্ক হওয়ায় মাতৃমৃত্যু কমতে শুরু করেছে। রাজ্যে ২০২৪-২৫ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৭০। সে বছর মোট ৯০০ জন মায়ের মৃত্যু হয়। প্রসব হয়েছিল ১৪ লক্ষ। এ বছর এখনও পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় মায়েদের মৃত্যু কম।