


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থিত নিম্নচাপটির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আগামী কাল রবিবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে। মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, শনিবার সন্ধ্যা-রাত থেকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়বে। নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার অধিক মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে ওড়িশায়। সেখানে বৃষ্টির মেঘ বেশি থাকার ফলে অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। রাজস্থান থেকে মধ্য ভারত হয়ে নিম্নচাপ পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখাটি কিছুটা উপরের দিকে উঠে আসার পর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার কোনো কোনো জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি (২৪ ঘণ্টায় ৭০-২০০ মিমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য জারি করা হয়েছে ‘কমলা’ সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলির কোনো কোনো স্থানে ভারী বৃষ্টিও (৭০-১১০ মিমি) হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
এদিকে দেশজুড়ে অব্যাহত মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি। রাজস্থান ও গুজরাতের কিছু এলাকা বাদ দিয়ে প্রায় গোটা দেশে বর্ষাকাল শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তর ও মধ্য ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জুন মাস পর্যন্ত বৃষ্টির যে ঘাটতি ছিল, তা কিছুটা কমেছে। সার্বিকভাবে দেশে বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ শতাংশের বেশি ছিল, সেটা কমে নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে। মধ্য ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি ৫০ শতাংশ ছুঁয়েছিল, সেটা এখন ৩১ শতাংশ। আবহাওয়া দপ্তরের কর্তা জানান, বর্ষা যে-বছর দুর্বল থাকে সে-বছর নিষ্ক্রিয় দশা চলে অনেক বেশি সময় ধরে। এখন দেশজুড়েই সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বর্ষা। বর্ষার সক্রিয়তার পিছনে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটির কিছুটা প্রভাব আছে। আগামী দিনে এটির প্রভাবে মধ্য ভারত ও লাগোয়া এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টি মাথায় গন্তব্যে...। শুক্রবার রাজভবন চত্বরে তোলা নিজস্ব চিত্র।