


কলকাতা, ১২ আগস্ট: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করলে কাউকে রেয়াত করা নয়। এমনকী অভিযুক্ত শাসক দলের নেতা-মন্ত্রী হলেও ছাড় মিলবে না। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ‘দেশদ্রোহী’। ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অবদান নেই।’ দিন কয়েক আগে ফুলবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এমন সন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দলের সাংসদের এহেন মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির।
এই প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিধায়কদের পাশে বসিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘নেতাজির অসম্মান বরদাস্ত করবে না প্রশাসন। যারা এই দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। সুভাষচন্দ্র সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারে পুলিশও কড়া ব্যবস্থা নেবে।’
অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে? মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কারোর নাম নেব না। কাউকে হিরো বা জিরো করার দায়িত্ব আমি নেব না। তবে আইন সকলের জন্য সমান। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। পুলিশকে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে নেতাজিকে অপমান করতে দেবো না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেও লেখা হচ্ছে।’এর রেশ ধরে তাঁর বার্তা, ‘সমাজমধ্যমেও যাঁরা নেতাজিকে অপমান করেছেন তাঁদের বলব, পোস্ট সরিয়ে নিন। ক্ষমা চান। তবে সরিয়ে নিলেও ছাড় পাবেন না।’ অর্থাৎ সরাসরি নাম না করলেও এই মন্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী অনন্তকে বার্তা দিলেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের।