


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের ভুলে ভরা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বিপাকে পরীক্ষার্থী এবং স্কুলগুলি। প্রচুর স্কুলে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ডে রোল নম্বরের সঙ্গে একটি বাড়তি দশমিক এবং শূন্য এসেছে। গত ২৮ জানুয়ারি সংসদের পোর্টালের মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে সেগুলি প্রিন্ট আউট করে পরীক্ষার্থীদের বিলি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভুলে ভরা অ্যাডমিট কার্ড আসায় সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে ফের সেই কাজ করতে বলা হয়েছে। স্বভাবতই অসন্তুষ্ট স্কুলগুলি। কারণ, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ওই ভুল অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিল। কেউ কেউ বিষয়টি সামনে আনে। তখন সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ জানায়, অ্যাডমিট কার্ডগুলির সফট কপি সংশোধন করা হয়েছে। স্কুলগুলি যেন আরেকবার প্রিন্ট আউট বের করে পরীক্ষার্থীদের হাতে সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড তুলে দেয়।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ’র নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘এই খাতে স্কুলগুলির বাড়তি খরচ তো হলই। তাছাড়া, শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা প্রস্তুতি শিকেয় তুলে স্কুলে আসতে হল পরীক্ষার্থীদের। স্ট্যাম্প এবং সই করিয়ে অ্যাডমিট নিয়ে যেতে বাড়তি সময় নষ্ট হল তাদের। স্কুল এবং পরীক্ষার্থী, উভয়েরই ভোগান্তি হয়েছে।’ এর পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। যেমন, সেন্টার সেক্রেটারি, সুপারভাইজার, ইনচার্জদের থেকে অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস নেওয়া হলেও পরীক্ষার জন্য তাঁদের কোনো ভাতা দেওয়া হয় না কখনও। স্কুলগুলি বরং খরচ চালাতে পরীক্ষার্থীদের থেকে ‘সেন্টার ফি’ বাবদ বাড়তি টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছে। পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার, পরীক্ষায় যুক্ত শিক্ষক এবং আধিকারিকদের টিফিনের ব্যবস্থা এবং গাড়ি ভাড়ার কিছু অংশ মেটানো হয় ওই টাকা দিয়ে। তবে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, পরীক্ষা চালাতে যা খরচ, সেই তুলনায় কম টাকা পায় স্কুলগুলি। এছাড়া, সংসদের তরফে দেওয়া মেটাল ডিটেক্টরে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে কয়েকটি জায়গায়। সেগুলির সঙ্গে দেওয়া চার্জার কাজ করছে না বলে খবর।
এদিন সংসদে জেলা পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক (ডিআই) এবং যুগ্ম আহ্বায়কদের অনলাইন বৈঠক হয়। চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও এবং এইআরও ডিউটিতে থাকা শিক্ষকদের পরীক্ষার ডিউটি দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক ডিআই বলেন, ‘কোনো সমস্যা হবে না। বিকল্প ব্যবস্থা করা রয়েছে।’ তবে শিক্ষকদের বক্তব্য, এসআইআরের কাজ ছেড়ে তাঁরা যাতে পরীক্ষার ডিউটিতে যোগ দিতে পারেন, তা নিয়ে একটি সার্বিক নির্দেশ জারি করা উচিত শিক্ষাদপ্তরের। তা হচ্ছে না বলেই কিছু সংশয় তৈরি হচ্ছে।