


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: সোনার ছেলে! তা ছাড়া কী-ই বা বলা যায়। ২০২২ চীনের হাংঝউতে এশিয়াড হকিতে সোনা জেতে ভারত। স্ট্রাইকার অভিষেক নাইনের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছিল প্রাক্তনদের। এখানেই শেষ নয়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন ক্রেগ ফুলটন ব্রিগেড। বিপক্ষের ডি’বক্সে ত্রাস ছড়ান সেই অভিষেক। ট্রফি ক্যাবিনেটে সোনার পদকের ছড়াছড়ি। শোনপতের তরুণের চোখ এবার বিশ্বকাপ হকিতে। আগামী ১৫ আগস্ট বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে শুরু কাপ যুদ্ধ। তার আগে নয়াদিল্লি থেকে মুঠোফোনে অভিষেকের মন্তব্য, ‘যে কোনও প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৈরি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সব মশলা এই দলে রয়েছে।’ উল্লেখ্য, প্যারিস ওলিম্পিকসের ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম অস্ত্র এই অভিষেক। ওলিম্পিকস পদক তাঁর কাছে আজীবনের স্বপ্ন। আবেগাপ্লুত গলায় বললেন, ‘সেই মুহর্ত ভোলার নয়। গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। এমন অনুভূতি প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাছেই স্বপ্ন।’ দেশের হয়ে ১২০টি ম্যাচে অভিষেকের গোলের সংখ্যা ৫১। ইতিমধ্যেই অর্জুন সম্মান পেয়েছেন তিনি।
অভিষেক ডাকাবুকো। ডি’বক্সে গোলের গন্ধ পান। সবচেয়ে বড় কথা ফিল্ড প্লে-তে জাল কাঁপাতে দক্ষ। দুরন্ত স্টিকওয়ার্ক। হার্দিক, যুগরাজদের সঙ্গে তালমিলও বেশ। রিভার্স ফ্লিকেও সিদ্ধহস্ত। রুমালের মতো চিলতে জায়গায় চকিত টার্ন নিতে পারেন। লাজুক অভিষেক বললেন, ‘ফুলটন স্যার মিডফিল্ডের সঙ্গে কম্বিনেশন গড়তে বরাবর বাড়তি জোর দেন। আমি ভাগ্যবান, এই দলে একাধিক গেমচেঞ্জার রয়েছে।’ পেনাল্টি কর্নার নেওয়ার ক্ষেত্রে অটোমেটিক চয়েস হরমনপ্রীত সিং। এক্ষেত্রে অভিষেকের ব্যাখ্যা, ‘হরমনপ্রীত ভাই কিংবদন্তি। ওঁর থেকে শিখতে হয় প্রতি মুহূর্তে।’
হরিয়ানার অভিষেকের উত্তরণ কম আকর্ষণীয় নয়। বাবা পদস্থ পুলিশ অফিসার। ছেলের হাতে অল্প বয়সেই তুলে দেন হকি স্টিক। ডানপিটে অভিষেক গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন হকি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন শেষ। কিন্তু অভিষেক অন্য ধাতুতে গড়া। সুস্থ হয়েই হাতে তুলে নিয়েছিল হকি স্টিক। যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা স্টিক ওয়ার্কে ছিটকে দিয়ে লক্ষ্যপূরণের নামই অভিষেক নাইন।