


নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই: রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্তের জামিন বহাল রাখার রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। আজ শুক্রবার শুনানির শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট তার জামিন বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনা করে। তারপরে পর্যবেক্ষণ শেষে দেখাযায় সোনম ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত, সেই তথ্য বিবেচনা নিয়েই আপাতত জামিন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। একই সঙ্গে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুরের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, পুরো মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার উপর তাদের নজর থাকবে।
সোনম রঘুবংশীর জামিন খারিজের আরজি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মেঘালয় সরকার। সোনমের সঙ্গে বিয়ের পর গত বছর মে মাসে হানিমুনে গিয়ে খুন হন রাজা রঘুবংশী। আর অভিযোগের তির ছিল সোনামের দিকেই। গ্রেপ্তারির সময় পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সম্প্রতি নিম্ন আদালতে জামিন পায় অভিযুক্ত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মেঘালয় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। কিন্তু হাইকোর্টও জামিন বহাল রাখে। এই রায়কে শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে মেঘালয় সরকার। আজ শুক্রবার সেই মামলারই শুনানি ছিল। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ ও শীল নাগুর অবসরকালীন বেঞ্চের কাছে দ্রুত শুনানির আরজি জানিয়েছেন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। তুষার জানিয়েছিলেন, টাইপে একটি ছোটো ভুল হয়েছিল। তা বিবেচনা না করেই সোনমকে জামিন দিয়েছিল আদালত।
গতবছর ১১ মে ইন্দোরে সোনম ও রাজা রঘুবংশীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর নবদম্পতি হানিমুনে মেঘালয় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ২০ মে তাঁরা কামাখ্যা হয়ে শিলং পৌঁছেছিলেন। এরপর ২৩ মে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ দু’জনই নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর একটি খাদ থেকে রাজা রঘুবংশীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চপারও পাওয়া যায়। তবে তখনও নববধূ সোনমের কোনো খোঁজ মেলেনি। তার খোঁজে সিট গঠন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, স্নিফার ডগ ও ড্রোনসহ ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছিল মেঘালয় পুলিশ। এমনকি তাকে অপহরণ করে বাংলাদেশে পাচারের জল্পনাও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে যেই ঘটনা সামনে আসে তা একেবারে থ্রিলার কাহিনিকেও হার মানিয়েছিল। মেঘালয় পুলিশ দাবি করেছিল, রাজাকে হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন স্বয়ং সোনমই। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই স্বামীকে খুন করেছিলেন। গোপন সূত্রে পরে গাজিপুরের একটি ধাবা থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ সোনমের সন্ধান পায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ইন্দোর ও ললিতপুর থেকে সোনমের কথিত প্রেমিক রাজ সিং কুশওয়া (২২) এবং আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ।