


মাদ্রিদ: লাইনের পাশে ভাঙাচোরা খেলনা গাড়ির মতো পড়ে রয়েছে ট্রেনের কামরা। তখনও ধোঁয়া উঠছে। তারইমাঝে চলছে প্রাণের সন্ধান। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ব্যাগ, জুতো আর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ। একটু দূরেই মৃতদেহ আঁকড়ে চিৎকার করছেন এক মধ্যবয়স্কা। বুধবার সকালে এমনই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল স্পেন। সেখানকার টলেডো প্রদেশে দু’টি দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল ৬৮ জনের। আহত শতাধিক। তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশের রেল পরিষেবার দায়িত্বে থাকা সংস্থা এডিআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জেরে মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে টলেডো প্রদেশের লস ইয়েবেনেস ও আর্দা শহরের মাঝে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, একই দিকে রওনা দিয়েছিল ট্রেন দু’টি। টলেডোর কাছে একটি ট্রেন অন্যটির পিছনে ধাক্কা মারে। এর জেরে দু’টি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। লাইন থেকে ছিটকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কামরাগুলি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বুধবার রাতপর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৪। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে। সূত্রে খবর, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছিল। সেইসময় ট্রেনকে সতর্ক করতে পারেননি কর্তব্যরত কর্মী। তার ভুলেই এই দুর্ঘটনা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আর্দার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানিয়েছেন, বহু যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের জন্য এলাকায় একটি অস্থায়ী স্টেডিয়াম তৈরি করা হচ্ছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রায় ১০০ জনকে মোতায়েন করেছে মাদ্র্রিদ সিটি কাউন্সিল। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজ। তিনি জানান, টলেডোর ট্রেন দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত। এনিয়ে পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। জানুয়ারি মাসেও দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।