


সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামের পোলট্রি ফার্মে দু’জন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত দু’জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম দুলাল শেখ ও বজরুল শেখ। বাড়ি কাটোয়ার কড়ুই পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামে। এদিন ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে গণ্ডগোল চলায় ওই গৃহবধূ কাটোয়া মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতে মামলার মীমাংসা করে নিচ্ছিলেন তাঁরা। এদিন সেখানে কাজ সেরে বিকেল নাগাদ ওই গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। ওই গৃহবধূ কাটোয়া থানার পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা নাগাদ তিনি কৈথন গ্রামে বাসস্ট্যান্ডে নামেন। তারপর তিনি একটি টোটোয় চড়ে বাপেরবাড়ি ফিরছিলেন। স্বামী তাঁকে কিছুটা রাস্তা এগিয়েও দেন। টোটো থেকে নেমে তিনি মেঠো রাস্তা ধরে হেঁটে ফিরছিলেন। অভিযোগ, গ্রামের কাছে ঢুকতেই ধৃত দু’জন জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। একটি পোলট্রি ফার্মে বধূকে নিয়ে গিয়ে দু’জন ধর্ষণ করে। বধূকে মারধরও করা হয়। তাঁকে মাঠে ফেলে পালায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর নির্যাতিতা বধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনওমতে বাড়ি ফেরেন। পুলিস ঘটনার পর টোটোচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই অভিযুক্তদের সন্ধান পায়। ওই এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে। কিছু যুবক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ওই এলাকায় বসে মহিলাদের ইভটিজিং করে বলেও অভিযোগ। এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, এলাকায় সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিস থাকলেও তারা ঠিকমতো নজরদারি চালায় না। অনেক রাত পর্যন্ত মহিলা সহ অনেকে অটো, টোটো করে বাড়ি ফেরেন। তাঁরা ওই রাস্তা দিয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। কাটোয়া থানার পুলিস জানিয়েছে, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।