


প্রথমেই সকলকে শুভ বিজয়া। পুজোর লম্বা ছুটি কাটিয়ে ধীরে ধীরে সকলে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। এই অবস্থায় অফিসে ঢুকেই কাজে মনোনিবেশ করা বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে ভালো ও লম্বা ঘুম খুবই দরকার। কারণ, পুজোর আনন্দ-উত্তেজনায় ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে অফিসে গিয়ে কাজে মন বসানো, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্যা দেখা দেবে। তাছাড়া এই সময়টা সকালে ঘুম থেকেও উঠতে ইচ্ছে করে না। সেক্ষেত্রে মনের অবসন্নতা কাটাতে শরীরচর্চা কার্যকরী। তারপর অফিসে ঢুকে নিজেকে কিছুটা সময় দিন। শুরুতেই এমন কোনও কাজ করবেন না, যা মানসিকভাবে আপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বরং সকলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে হাল্কা মুডে কাজের পরিবেশে ফিরুন।
আসলে অনেকের কাছেই অফিস ও অবসাদ পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। এবার কয়েকটি পরামর্শ দেব, যা আপনাকে সবসময় কাজের জায়গায় চাপ ও অবসাদমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। গুরুত্বপূর্ণ হল, কী কারণে অবসাদ বা চাপ তৈরি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা।
অফিসে ঢোকার সময় মনে রাখতে হবে— এটা বাড়ি নয়। এখানে পরিবারের কেউ নেই। খেলা বা আড্ডা মারার জায়গাও নয়। তাই সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। অফিসে অসতর্কতার কারণেই ভুল হয়। অযথা স্ট্রেসও ডেকে আনে। তাই অফিসে ঢোকার সময় থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। চেয়ারে বসে কিছুটা জল খান। শরীর ডিহাইড্রেট থাকলে মস্তিষ্ক ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সতর্ক থাকতে আমাদের সাহায্য করে গুরুমস্তিষ্ক। বেশিরভাগ সময়ই এটি ‘অফলাইন’ থাকে। তাকে ‘অনলাইন’ করতে হয়। এর জন্য শ্বাসের ব্যায়াম উপকারী। চেয়ারে বসে একটু স্ট্রেচও করতে পারেন।
কিছুক্ষেত্রে একঘেয়েমিও চলে আসে। কাজের মাঝে সময় পেলে একটু হেঁটে নিন। জানলা দিয়ে বা অফিসের ছাদে গিয়ে আশপাশটা দেখুন। তাতে জীবনটাকে অনেক বড় করে দেখার অনুপ্রেরণা পাবেন। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে। কাজের মধ্যেই সৃষ্টিশীলতাকে খুঁজে নিতে হবে।
টিফিন বা বিরতির সময় একা থাকবেন না। চেষ্টা করুন অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলতে, হাসিঠাট্টা করতে, খাবার ভাগ করে খেতে— এগুলি স্ট্রেস বাস্টারের কাজ করে।
অফিসটাইম শেষ হওয়ার কিছু আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করুন। সময়ের মধ্যে কাজ বা টার্গেট শেষ করতে হবে। বহুক্ষেত্রে দেখা যায়, লাঞ্চের পর কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। এটা ঠিক নয়। অফিসের কাজ বাড়িতে বয়ে নিয়ে যাওয়া চলবে না।
বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের সঙ্গে তাদের মতো করে খেলতে পারলে সবচেয়ে ভালো।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টাখানেক আগে থেকে ডিজিটাল দুনিয়াকে বিদায় দিন। হালকা মিউজিক শুনুন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলে ডিনারে দেরি করবেন না। ফোন না ঘেঁটে শুয়ে পড়ুন।
সকালে উঠে একটু ব্যায়াম করলে শরীর-মন দুইই ভালো থাকে। তাছাড়া, দিনের যখনই হোক, একটু প্রকৃতির কাছাকাছি থাকারও চেষ্টা করুন। কারণ, দেখা গিয়েছে, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মন শান্ত থাকে।
লিখেছেন সুদীপ্ত সেন