


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: স্ত্রীর হাত ধরেই ‘অনিয়মে’ হাতেখড়ি আশিস কর্মকারের। স্ত্রী তখন সিপিএমের চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের প্রধান। তবে, জাল জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর যাবতীয় খুঁটিনাটি আশিস জেনেছিল আগেই। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন, স্ত্রীর পদকে ব্যবহার করেই পঞ্চায়েতের নানা কাজ থেকে মোটা টাকা কামানোর পথ বের করেছিল ধৃত আশিস। ১১ হাজার টাকা মাইনের পঞ্চায়েত কর্মীর কীভাবে চারটি চারচাকা গাড়ি থাকতে পারে, সেটাই ভেবে পাচ্ছে না পুলিস। পুলিসকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, আশিসের দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। শুধুমাত্র জাল জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল না।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃত আশিস কর্মকারের বাড়ি চাপড়ার ভূমি সংস্কার অফিস সংলগ্ন এলাকায়। ২০২২ সালে সে চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আসে। এর আগে ২০১৩-’১৮ সালে চাপড়া ব্লকের মহেশপুর পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী ছিল। তখন সেই পঞ্চায়েত ছিল সিপিএমের দখলে। পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রধান পদে ছিলেন আশিস কর্মকারের স্ত্রী। তাই রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিল আশিস। স্ত্রীর পদকে ব্যবহার করেই পঞ্চায়েতের নানা কাজের খুঁটিনাটি জেনে নেয় সে। কোন কাজ কীভাবে করলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মোটা টাকা কামানো যাবে, তার হাতেখড়ি মহেশপুর পঞ্চায়েতে হয়েছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাই মহেশপুর পঞ্চায়েতে কর্মরত অবস্থায় আশিসের দুর্নীতি করার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা।
তবে, মাঝের এই চার বছর আশিস কোথাও কর্মরত ছিল না। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই সে ফের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে ঢোকে। তারপর থেকে টানা দু’বছর জন্ম শংসাপত্র নিয়ে নানা অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ।
এখনও পর্যন্ত গত বছরে ইস্যু করা এক হাজারের বেশি জাল জন্ম শংসাপত্রের হদিশ পেয়েছে পুলিস। পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ ২০২২-’২৩ ও ২০২৩-’২৪ অর্থবছরে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা নিয়ে কোনওরকম নথি সংরক্ষণ করেনি ওই অভিযুক্ত।
এমনকী, সে পঞ্চায়েত প্রধানের ডিজিটাল সিগনেচার জাল করে এবং ভুয়ো নম্বরে ওটিপি পাঠিয়ে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চাপড়া থানার পুলিস ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধরা পড়েছে হাঁসখালি ব্লকের এক পঞ্চায়েত সহায়ক, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সহ বেশ কয়েকজন সাইবার ক্যাফের মালিকও।
সাইবার ক্যাফের মালিকরা পার্টির কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে নন-ইনস্টিটিউশনাল জন্ম শংসাপত্রের জন্য আবেদন করত। সেই আবেদনপত্র হৃদয়পুর পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু করিয়ে কমিশন নিত আশিস কর্মকার।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ধৃতরা হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ধৃত আশিস কর্মকারের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিষয়টি সামনে আসতেই জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।