


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে চলছে উপনির্বাচন। ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার পর সকাল সবে সাতটা পেরিয়েছে। তার মধ্যেই রেজিনগরে ভোটের আবহে ঢুকে পড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। ভোট দিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বুথে পৌঁছেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। তাঁর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
পালাবদলের পাঁচ মাস পর আয়োজিত এই ভোটকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রেজিনগরে তারই আঁচ মিলল হুমায়ুনের বক্তব্যে। ভোটগ্রহণ পর্বের শুরুতেই ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বুথে হাজির হন হুমায়ুন। ভোট দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি 'পুলিশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে। পুলিশ ভোট লুঠ করতে সাহায্য করছে।' পুলিশের বিরুদ্ধে মুগুর নিয়ে সাধারণদের দাঁড়াতে বলেন হুমায়ুন। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাঁধা দিচ্ছে পুলিশ এমনটাও অভিযোগ তাঁর। ভোটের প্রথম ঘণ্টাতেই হুমায়ুনের এই বক্তব্যকে ঘিরে রেজিনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরে আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ভোট দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় রীতিমত পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, বাকবিতণ্ডা শুরু হয় হুমায়ুনের। পরিস্থিতের গুরুত্ব বুঝেই পুলিশ হুমায়ুন কবিরকে টানতে টানতে নিয়ে যান এবং আটক করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অপরদিকে হুমায়ুনকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। 'পরাজয়ের আর্তনাদ শুরু করেছে হুমায়ুন।' নির্বাচনের দিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এমনটাই মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের ৭০-রেজিনগর বিধানসভায় উপ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭টা থেকে। মোট ৩১৫ বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৪৬। রেজিনগর আসনে এজেইউপি-র প্রার্থী কবিরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ। এই আসনে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামেদের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা এই দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। পরে নওদা আসনটি ধরে রাখায় রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে।