


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েত থেকে জন্মের জাল শংসাপত্র ইস্যুর ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধরা পড়েছে হৃদয়পুর পঞ্চায়েতেরই তৃণমূল সদস্যা সুন্দরী বিবির স্বামী আব্দুর রহমান, হাঁসখালি ব্লকের দক্ষিণপাড়ার এক পঞ্চায়েতের সহায়ক সৌমেন বন্দোপাধ্যায়। সৌমেনের বাড়ি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত শক্তিনগর এলাকায়। এছাড়াও চাপড়া থানার বেতবেরিয়ায় হিন্দুপাড়া এলাকার রাজভোগ হালসানাকেও পাকড়াও করা হয়েছে। ধৃতদের মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। সাতদিনের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, ধৃতরা মূল অভিযুক্ত আশিস কর্মকারকে পার্টি সরবরাহের কাজ করত। হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের জন্মের জাল শংসাপত্র ইস্যু কান্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে চাপড়া থানার পুলিস।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (হেডকোয়ার্টার) মাকওয়ানা মিটকুমার সঞ্জয়কুমার বলেন, ‘জন্মের জাল শংসাপত্র ইস্যুর মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় এই তিনজনের নাম উঠে এসেছে। সেইমতো তাদের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পঞ্চায়েত সহায়ক বাদে বাকিদের সাইবার কাফে রয়েছে। তারাই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্টি জোগাড় করত। যাদের নন ইনস্টিটিউশনাল জন্মের শংসাপত্রের প্রয়োজন রয়েছে। সেই সমস্ত পার্টির থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে জন্ম শংসাপত্রের আবেদন করানো হতো। হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের ডেটা এন্ট্রি অফিসার আশিস কর্মকারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। তাঁর মাধ্যমে পঞ্চায়েত থেকে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হতো। তবে, পঞ্চায়েতেরই তৃণমূল সদস্যার স্বামী যুক্ত থাকায় ঘটনাটিতে অন্য মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, তৃণমূল পরিচালিত হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের প্রধানের তরফ থেকেই এই জালিয়াতি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
এব্যাপারে হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা চাপড়া ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম বলেন, ‘পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জন্মের জাল শংসাপত্র কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে। কোনও অপরাধের ঘটনার তদন্ত আইন মোতাবেক চলবে। কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। তার দায় দল নেবে না।’
কোনও ব্যক্তির জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করার জন্য পঞ্চায়েত প্রধানের ডিজিটাল সিগনেচার এবং প্রধানের ফোনে যাওয়া ওটিপি নম্বরের দরকার পড়ে। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধানের সেই ডিজিটাল সিগনেচার হাতিয়ে এবং ভুয়ো ফোন নম্বরে পাঠানো ওটিপি দিয়ে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করে দেওয়া হতো। বিগত এক বছরে হৃদয়পুর পঞ্চায়েত থেকেই ১ হাজার ১২৯টি নন ইনস্টিটিউশনাল জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই কাজে হাঁসখালি ব্লকের দক্ষিণপাড়া-১ পঞ্চায়েতের সহায়ক সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় সাহায্য করত বলে পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে। পাশাপাশি সহায়কের কাছে আসা পার্টিকে আশিস কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিত সৌমেন। এর আগে এই ঘটনায় মুজিবুর মণ্ডল ও রাকিবুল শেখ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস।