


ঘরোয়া লিগের ম্যাচ। খিদিরপুরের বিরুদ্ধে শুরুতেই পিছিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। ব্যস আর যায় কোথায়! ক্ষোভে ফুটছে গ্যালারি। কানের পাশ দিয়ে আধলা ইট মাঠে পড়তেই পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড়। সমর্থকদের শান্ত করতে ছুটে যাই গ্যালারির দিকে। কানে আসে, ‘ওরে বলাই কইতাসে। ছাড়ান দে।’ ম্যাচ জয়ের পর একেবারে অন্য ছবি। জলকাদার মাঠে পায়ের উপর সটান লাফ এক অনুরাগীর। ‘গুরু আমার বুকের উপর দিয়া যাও।’ একবার লিগ জয়ের পর তাজা ইলিশের মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন সমর্থকরা। ভাবুন অবস্থা! আসলে ইস্ট বেঙ্গল জনতা এমনই। ভালো খেললে কাঁধে তুলে নেবে। হারলে নো ছাড়াছাড়ি। ওরাই গ্যালারির প্রাণ। ইস্ট বেঙ্গলের জীবনকৃতী সম্মান পাওয়ার খবর শুনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে সমর্থকদের কথা। লাল-হলুদ গ্যালারি সবার সেরা।
ছোটো থেকেই পাঁড় ইস্ট বেঙ্গল সমর্থক। তখন স্কুলে পড়ি। প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে ছুটে যেতাম গ্যালারিতে। একবার ইস্ট বেঙ্গল মাঠের মাটি পকেটে ভরে বাড়ি নিয়ে আসি। প্রণাম করে তা সযত্নে তুলে রেখেছিলাম। লাল-হলুদ জার্সি পরার স্বপ্ন ছিলই। ১৯৮২-তে মহমেডান স্পোর্টিং থেকে আমায় ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা সই করান। বাকিটা লাল-হলুদ রঙয়ে মিশে যাওয়া। শপথ নিয়েছিলাম, ক্লাবকে সাফল্য এনে দিতে নিজেকে উজাড় করে দেব। ১৯৮৫ সালে আমার অধিনায়কত্বে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। সেবার জামশেদের একমাত্র গোলে মোহন বাগানকে হারাই আমরা। কলম্বোয় এশিয়ান ক্লাব কাপেও মেলে সাফল্য। ভারতের জাতীয় দলের পতাকা হাতে মার্চ পাস্টের সময় গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল। খেলা ছাড়ার পরেও ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট। ক্লাবের সুদৃশ্য ট্রফি রুমে সাফল্য উপচে পড়ুক। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে এই প্রার্থনাই করি।