


নয়াদিল্লি: আগস্টে শ্রীলঙ্কায় দু’টি টেস্ট খেলবে ভারত। তার জন্য ১৫ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করল বিসিসিআই। অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজার কামব্যাক নিঃসন্দেহে বড় চমক। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই এক পা এগিয়ে দুই পা পিছানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন। আসলে একাধিক ক্রিকেটারের চোট থাকায় দল নির্বাচন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার উপর শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলা, যেখানে স্পিনারদের ভূমিকা হয়ে উঠবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই কুলদীপ যাদবের সঙ্গে মানব সুতার রয়েছেন স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে। তা সত্ত্বেও স্পিন অলরাউন্ডার জাদেজাকে ফেরানো হয়েছে ব্যাটিং শক্তিশালী করতে। তবে দল নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক অবশ্যই মধ্যপ্রদেশের স্পিন অলরাউন্ডার সারাংশ জৈনের অন্তর্ভুক্তি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন তিনি। ভারতীয় এ দলের হয়েও শ্রীলঙ্কায় তিনি নজরকাড়া পারফরম্যান্স মেলে ধরেছিলেন। তখন থেকেই নির্বাচকদের নজরে ছিলেন ৩৩ বছরের সারাংশ। ওয়াশিংটন সুন্দরের চোট শেষ পর্যন্ত তাঁর সামনে জাতীয় দলে খুলে দেয়।
কে এই সারাংশ জৈন? মধ্যপ্রদেশের এই অফস্পিনার খেলেছেন ৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ২২২৩ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ১৮৮টি উইকেট। সারাংশের বাবা সুবোধ জৈনও মধ্যপ্রদেশের হয়ে রনজি খেলেছেন। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ হয়নি। সেই আক্ষেপ কিছুটা দূর হল ছেলে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ায়। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে দারুণ খুশি সারাংশ। তবে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, সেটা ভালোই বুঝছেন ইন্দোরনিবাসী অলরাউন্ডার। বোর্ডের সেন্টার অব এক্সলেন্সে প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিংয়ের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিলেন সারাংশ। ভাজ্জির পরামর্শকে পাথেয় করেই টেস্ট দলে জমি শক্ত করাই লক্ষ্য সারাংশের। ১৯৯৮ সালে রবিন সিংয়ের পর ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ৩৩ বছরে সারাংশের টেস্ট অভিষেক হতে পারে।
পাশাপাশি চোট সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সাই সুদর্শনকে শর্তসাপেক্ষে দলে রাখা হয়েছে। একই রকমভাবে ফিটনেস ইস্যু থাকলেও তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাহকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। বাকি পেসাররা হলেন মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও গুরুনুর ব্রার। অধিনায়কের দায়িত্ব সামলাবেন শুভমান গিল। ডেপুটি নির্বাচিত হয়েছে লোকেশ রাহুল। ব্যাটিংয়ে যশস্বী জয়সওয়াল, দেবদূত পাদিক্কালও রয়েছেন। দুই উইরেকক্ষক ঋষভ পন্থ ও ধ্রুব জুরেল। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত প্রথম টেস্টটি খেলবে ১৫-১৯ আগস্ট। দ্বিতীয় ম্যাচ ২৩-২৭ আগস্ট। তার আগে চার দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নেবে গিল বাহিনী।