


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্বকাপে খেলব, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে দল নামাব না। পাকিস্তানের অদ্ভুত বায়নাক্কায় টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিযোগিতা শুরু। হাতে সময় খুবই কম। পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট ইস্যু রীতিমতো বিপাকে ফেলেছে জয় শাহর আইসিসি’কে। কারণ, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচারকারী চ্যানেল। সবমিলিয়ে আইসিসি’র ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২২০০ কোটি টাকা। তাই জট কাটাতে জরুরি সভা ডাকল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। চলছে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টাও। ঘুর পথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আইসিসি’র প্রতিনিধিরা আলোচনা চালাচ্ছে বলে খবর। তবে বরফ গলার ইঙ্গিত মেলেনি এখনও। এই আবহেই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছালেন সলমন আগা-বাবর আজমরা। বিশ্বকাপের সবক’টি ম্যাচ দ্বীপরাষ্ট্রেই খেলার কথা তাদের। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না ধরে নিয়েই পাক দল এগচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন সলমন আগা।
নরমে-গরমে সমাধান সূত্র বের করতে চাইছে আইসিসি। রবিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, খেললে পুরো টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। বেছে বেছে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেওয়া হবে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এই মর্মে পিসিবি’র কাছে লিখিত জবাব চেয়েছে আইসিসি। তবে ইসলামাদের খবর, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সরকারের থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সবুজ-সংকেত এখনও পায়নি। মনে করা হচ্ছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি টস না হওয়া পর্যন্ত এই নাটক অব্যাহত থাকবে। কারণ, কলম্বোয় বেস ক্যাম্প করছেন বাবররা। আর ভারতীয় বোর্ডও জানিয়ে দিয়েছে, সূচি মেনেই সূর্যরা কলম্বোয় পাক ম্যাচ খেলতে মাঠে যাবেন। ক্রিকেট পণ্ডিতদের ধারণা, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন মিটে গেলেই দ্রুত ভোল বদলে ফেলবে পাকিস্তান। কারণ, মুস্তাফিজুর ইস্যুতে প্রথম থেকেই বাজার গরম করার চেষ্টা চালিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। ভারতীয় বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিসিবি’র পাশেই থেকেছেন তিনি। অনেকের মতে, পিসিবি’র পরামর্শ মেনেই ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। ক্রিকেটকে সামনে রেখে দুই দেশই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মরিয়া। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে আউট হয়ে গিয়েছে আগেই। পাকিস্তানের ভাগ্য ঝুলে। আইসিসি’র সভায় কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেটাই দেখার।
নাকভি অবশ্য চালিয়ে খেলছেন। তাঁর নতুন হুমকি, শুধু গ্রুপ পর্ব নয়, নক-আউটেও ভারতের ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। তা শুনে অনেকে মশকরা করে বলছেন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষানদের ফর্ম দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি জানেন, মাঠে নেমে হারার থেকে অজুহাত খাড়া করে পালিয়ে যাওয়াই ভালো। তাতে অন্তত লজ্জা থেকে মুখরক্ষা হবে। তবে এটা ঠিক যে, আগুন নিয়ে খেলছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যে ডালে বসে আছেন, সেটাই কাটছেন নাকভিরা।
এমনিতেই লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে জঙ্গি হামলার পর অনেক দেশ এখনও পাকিস্তান সফরে যেতে সাহস পায় না। তার উপর আইসিসি’র শাস্তির খাড়া নেমে এলে ভেন্টিলেশনে ঢুকে যাবে পাকিস্তানের ক্রিকেট। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে পিসিবি। টুর্নামেন্টের লভ্যাংশ বাবদ প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি পাওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের। সেই অর্থ তো তারা পাবে না। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী চ্যানেল ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে পিসিবি’র বিরুদ্ধে মামলা ঠুকতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও তিন-চারশো কোটি টাকা গুনাগার দিতে হবে পিসিবি’কে। তাই হাতে-পাতে মরবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। নাকভির গোঁয়ার্তুমির কারণে ইমরান খান-ওয়াসিম আক্রামদের দেশের ক্রিকেটটাই ডগে ওঠার উপক্রম।