


সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাইরে থেকে আসা যে কেউ কচুবন ভেবে ভুল করতে পারেন। আগাছায় ভরা চাষের জমিও মনে হতে পারে। তবে এটি কচুবন কিংবা আগাছায় ভরা চাষের জমি নয়। এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদরের ইছামতী। যে ইছামতীতে আজ আর স্রোত বয় না। খেলে না জোয়ার-ভাটা। ইছামতীতে আজ আর নৌকা বেয়ে মাঝিরা গান গায় না। আজকের ইছামতী আগাছা, কচুরিপানায় আবদ্ধ একটা বদ্ধ জলাশয়। নদীর বুকে চলছে চাষাবাদ। সামান্য জল থাকলেও জঙ্গলে ঘেরা নদীতে জল আর দেখা যায় না। কোথাও কোথাও নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে গিয়েছে। নদী আজ ম্যাপেই সীমাবদ্ধ।
বনগাঁর মুরিঘাটা সহ একাধিক এলাকায় নদীর বুকেই মধ্যে চলছে চাষাবাদ। কোথাও আবার নদী দখল করে গড়ে উঠেছে নির্মাণ। অম্বরপুরের বাসিন্দা ফটিক ভদ্র বলেন, ‘এই নদী দেখে খারাপ লাগে। আগে নদীতে জল দেখে ভয় করত। স্রোত ছিল। ইছামতীর উপর নির্ভর করে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা চলত। নদী না থাকলে আমরা মারা যাব।’ নদীপাড়ের কেউটিপাড়ার বাসিন্দা আবু বাশার মণ্ডল বলেন, এই নদীতে ছোটবেলায় স্নান করেছি। আজ নদীতে জলই নেই। আগাছা ভরে গিয়েছে।’বনগাঁ মহকুমার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী আজ মৃতপ্রায়। নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের পাবাখালি এলাকায় চূর্ণী ও মাথাভাঙা নদীর সংযোগস্থলই ইছামতীর উৎস। সেই উৎসমুখ আর নেই, বলা যায়। পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গিয়েছে। কৃষ্ণগঞ্জের পাবাখালি থেকে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা কালাঞ্চি পর্যন্ত ইছামতী প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০০০ সালে ভয়াবহ বন্যার পর বেশ কয়েকবার পলি তুলে সংস্কার করা হলেও হাল ফেরেনি ইছামতীর। বহুবার নদীর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী বাঁচাতে নদীর উৎসমুখ সংস্কার জরুরি। বৃহস্পতিবার স্বরূপনগর ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় ইছামতী নদী পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক কর্তারা। জানা গিয়েছে, শীঘ্রই সেখানে ইছামতী সংস্কার করা হবে। তবে বনগাঁ ব্লকে এখনই ইছামতী নদী সংস্কারের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানা গিয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, স্বরূপনগরে ইছামতী নদী পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এখনই বনগাঁয় নদী সংস্কারের পরিকল্পনা নেই।’ নিজস্ব চিত্র