


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার রঙিন ইট তৈরি হবে শ্যামপুরে। এই ধরনের ইট তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই গুজরাতে গিয়ে প্রকৌশল শিখে এসেছেন শ্যামপুর ব্রিক ফিল্ড ওনার্স আ্যসোসিয়েশনের সদস্যরা। অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের বক্তব্য, এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে বারাণসীর পাশাপাশি ভিয়েতনামে যাওয়ারও পরিকল্পনা আছে তাঁদের।
হাওড়া জেলার শ্যামপুর ইট শিল্পের জন্য বিখ্যাত। আগে এখানে দেড়শোর বেশি ইটভাটা থাকলেও নানা কারণে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে দক্ষ শ্রমিকের অভাব এই শিল্পের অন্যতম সমস্যা। এই শিল্পকে বাঁচাতে শ্যামপুর ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তন্ময় শী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে ইটশিল্পের রমরমা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও নিজেদের পরিবর্তন করতে চাইছি। বাজারে টিকে থাকার জন্য আমরা ইটশিল্পে একটা নতুন যুগের সূচনা করতে চাইছি। এক্ষেত্রে মেশিনে ইট তৈরি হবে। এমনকি, রঙিন ইটও তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, কয়লার ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশে দূষণের মাত্রা কমানোই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি কম খরচে কীভাবে উন্নতমানের ইট তৈরি করা যায়, তা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। তন্ময়বাবুর কথায়, বর্তমানে ইটশিল্পে দক্ষ শ্রমিকের অভাব আমাদের ভাবাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আসতে চাইছে না। শ্রমিকের এই সমস্যা মেটাতে আমরা নতুন প্রযুক্তির মেশিন ব্যবহার করতে চলেছি। এর ফলে দক্ষ শ্রমিকের সমস্যা যেমন মিটবে, তেমনই ভবিষ্যতে আরো উন্নতমানের ইট আমরা তৈরি করতে পারব।
তন্ময়বাবু বলেন, আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, শ্যামপুরের মাটিতেই সাধারণ ইটের পাশাপাশি রঙিন ইটও তৈরি করা সম্ভব। রঙিন ইট ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই বাড়িতে প্লাস্টারের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে আলাদা করে রং করারও দরকার পড়বে না। এখন বহু দেশে এই ধরনের ইট ব্যবহার হচ্ছে। তা দেখেই আমরা রঙিন ইট তৈরির চেষ্টা করছি। যেসব জায়গায় রঙিন ইট তৈরি হয়, সেখানে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা পালা করে যাবেন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। এক কথায়, পরিবেশ দূষণ আটকাতে এবং ইটশিল্পকে বাঁচাতে আমরা সার্বিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিজস্ব চিত্র