


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: খসড়া এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যেন একজনও মৃত ব্যক্তির নাম না-থাকে। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে এসে ফের জানাল সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বাধীন দল। তারপরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর। তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম এড়াতে ইনিউমারেশন ফর্ম বিতরণ এবং সংগ্রহ পর্বেই একপ্রস্থ যাচাই করে নিতে চাইছে কমিশন। ফলে যাঁদের ফর্ম তাঁদের নিকটাত্মীয় সই করে জমা দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে একাধিকবার যাচাই বা ক্রস চেক করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল প্রতিটি জেলাকে। কিন্তু, কীভাবে চলবে এই যাচাইয়ের কাজ? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এই মর্মে রাজ্য সিইও দপ্তরের তরফে জেলাশাসক বা ডিইওদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যাঁরা নিজেরা ইনিউমারেশন ফর্মে সই করবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বা ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কল করে বা ভিডিও কল করে তাঁদের পরিচয় যাচাই যাচাই করে নিতে হবে। এই বার্তাতেই পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, যে তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম এড়াতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এমনকি, গত কয়েকবছরে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, আগামী দশদিনের মধ্যে তার তালিকা সিইও অফিসে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেক্ষেত্রে কয়েকবছরে একটি জেলায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া ব্যক্তি আদৌ জীবিত কি না, তা জানতে শ্মশান, কবরস্থান এবং পঞ্চায়েতের ডেথ রেজিস্টার ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্য সরকারের সমব্যথী প্রকল্পের তথ্যও কাজে আসবে। সূত্রের খবর, তালিকায় মৃতদের নাম থাকা রুখতে কোচবিহারের বৈঠকে সমব্যথী প্রকল্পের তথ্য ব্যবহারের পরামর্শ আসে এক জেলাশাসকের তরফে। তা নিয়ে বৈঠকে কোনও আপত্তি ওঠেনি। তারপর বেলা গড়াতেই, প্রত্যেক জেলাশাসকের কাছে এই প্রকল্পের তথ্য ব্যবহারের নির্দেশ দেয় কমিশন। গরিব পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে সৎকারের জন্য সমব্যথী প্রকল্পে পরিবারকে দু-হাজার টাকা দেয় রাজ্য।
এদিন উত্তরবঙ্গের বৈঠকে ছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহল থেকে চা বাগান—এসআইআরে সংশ্লিষ্ট দুটি এলাকার ভোটারদের কোনও সমস্যা হবে না।’ এতে খুশি সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা। আজ, শুক্রবার থেকে তাঁরা ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলআপ করবেন। এদিকে, আজ শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে এসআইআরের কাজকর্ম পর্যালোচনা করবে কমিশন। কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এদিন দুপুরে বিভিন্ন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা ডিএম অফিস লাগোয়া রাস্তায় জড়ো হন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে দেখা করেনি কমিশনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক অতিরিক্ত জেলাশাসক। তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশ্বস্ত করেন তিনি।
আলিপুরদুয়ারের ডুয়ার্সকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে চা বাগানের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিইও বলেন, বৈধ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের কারও নাম বাদ যাবে না। আজ, শুক্রবার কমিশন শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউস ও জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ হলে মিটিং করবে।