


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রস্তুতি সাড়া ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত অপেক্ষা করছিল তাঁর আসার জন্য। আইনজীবীরাও বিভিন্ন জায়গা থেকে বারবার জানতে চাইছিলেন, কখন নির্যাতিতা গোপন জবানবন্দি দিতে আসবেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও, আইআইএম জোকায় ধর্ষণের শিকার হওয়া তরুণী এলেন না আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে। কোনও বিশেষ কারণে কী তিনি আদালতে আসতে ভয় পাচ্ছেন, নাকি এর পিছনে অন্য রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে আইনজীবী মহলে। এই আবর্তে তাঁর ‘অন্তর্ধান’ রহস্য আরও বাড়িয়েছে। তরুণী তদন্তে সহযোগিতা না করায়, আগামী শনিবার আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করানো হলে, তাঁর জামিনের বিরোধিতায় কোন যুক্তি তুলে ধরা হবে, এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রসঙ্গত, সোমবারও আদালতকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন ওই নির্যাতিতা।
আইআইএম জোকা কাণ্ডে নির্যাতিতা অভিযোগ করার পর পুলিস সমস্ত দিক কভার করেই তদন্তে এগচ্ছিল। যাতে আদালতে তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। এমনকী উচ্চ আদালতে মামলা গেলে মুখ থুবড়ে না পড়ে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা থেকে শুরু পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ সবটাই করে ফেলেছেন তদন্তকারীরা। ডিজিটাল এভিডেন্স অর্থাৎ আইআইএমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ,অভিযুক্তের মোবাইল সবকিছু চলে গিয়েছে ফরেন্সিক পরীক্ষায়। খালি বাকি রয়েছে অভিযোগকারিনীর মোবাইল ও ঘটনার দিন পরনের জামাকাপড় বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো। যা মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিসকে দেননি ওই তরুণী। তদন্তকারী অফিসাররা চাইছিলেন, আদালতে গোপন জবানবন্দি হয়ে গেলে জোরাল তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তাঁরা দ্রুত চার্জশিট জমা দিতে পারবেন। কিন্তু গোটা প্রক্রিয়াটি থমকে গিয়েছে নির্যাতিতার অসহযোগিতায়। তাঁর সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারছে না সিটের টিম। মঙ্গলবার আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তদন্তকারী অফিসাররা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন ওই তরুণীর সঙ্গে। কিন্তু মোবাইল বন্ধ ছিল। বাড়িতেও পাওয়া যায়নি তাঁকে। মঙ্গলবারও আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে না আসায়, যথেষ্ট ফাঁপরে পড়েছেন তদন্তকারীরা। যে সমস্ত ধোঁয়াশা রয়েছে, তা দূর করতে ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলেও তার সুযোগ পাননি অফিসাররা। এমনকী তরুণীর বয়ফ্রেন্ড কোনভাবে গোটা বিষয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন কি না, সেটাও জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাই তদন্ত একটা জায়গায় গিয়ে থমকে গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখনও অপেক্ষা করছেন ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টগুলি আসার জন্য। কিন্তু সেখানেও নির্যাতিতার অংশ বাদ থেকে যাবে। যার সুযোগ নেবেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা। ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, আদৌ কি তরুণী আচ্ছন্ন ছিলেন? নাকি এটা অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছিল পরিকল্পনা করেই। যদিও পুলিসের দাবি কোল্ড ড্রিঙ্ক ও বোতলের জলের নমুনা আসার পরই স্পষ্ট হবে, তাতে মাদক পাউডার মেশানো হয়েছিল কি না।